অসহায় নারীদের প্রেরণায় শম্পার 'প্রেরণা'

image

গাজী কাইয়ুম-

স্বপ্ন দেখেন অসহায় মানুষের পাশে থেকে সাহায্য করা ও কর্মসংস্থানের ব্যাবস্থা করার। সমাজের অসহায় নারীদের ভাগ্য বদলের জন্য নিজে নিরলস প্ররিশ্রম করে যাচ্ছেন। বলছিলাম সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থানার মোজাহার মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ও নারী সংগঠন ‘প্রেরণা’র উদ্যোগতা শম্পা গোস্বামীকে নিয়ে।

ছোটবেলা থেকে বন্দি জীবনযাপন করতে হতো, কারণ তার জন্ম ঠাকুর পরিবারে। যার কারণে তাকে অনেক নিয়ম মেনে চলতে হতো। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হওয়ার পরও নিজের পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন; সংগ্রাম করে যাচ্ছেন নারীদের অধিকার নিয়ে, ভাঙতে শুরু করেন সমাজের তৈরি 'অবৈধ' শিকলের খাঁচা। এনিয়ে অনেক বাধা আসলেও তিনি থেমে যাননি।

মানুষ তৈরির কারিগর স্কুলের শিক্ষিকা হয়ে যেমন শিক্ষার্থীদের মানুষের মত করে তৈরি করছেন; তেমনি সমাজের অসহায় নারীদের ভাগ্য বদলের জন্য নিজেই প্রতিষ্ঠা করেছেন একটি নারী সংগঠন ‘প্রেরণা’। 

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা সদরে অবস্থিত 'প্রেরণা'র প্রধান কার্যালয়। ২০১৫ সালে কালিগঞ্জ উপজেলা মহিলা অধিদপ্তর থেকে অনুমতি পত্র নিয়ে মাত্র তিন জন নারীকে নিয়ে কাগজের ব্যাগ তৈরির কাজ শুরু করেন। চার বছরের ব্যবধানে 'প্রেরণা'র সদস্য সংখ্যা এখন শতাধিক। তাছাড়া যাদের বাহিরে কাজ করার সুযোগ নেই তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন।

আন্দোলন৭১'কে 'প্রেরণা'র ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানান শম্পা গোস্বামী। তিনি বলেন, আমি স্বপ্ন দেখি; 'প্রেরণা' একদিন বড় দশটি প্রতিষ্ঠানের মত একটি প্রতিষ্ঠান হবে, সেখানে সমাজের যত গরিব, অসহায় ও বিধবা নারী আছেন তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। যাতে কোন গরিব, অসহায় ও বিধবা নারী অন্যের উপর নির্ভর না করতে হয়।

বর্তমানে 'প্রেরণা'র কর্মীরা কাপড় কেটে লেভেল লাগিয়ে মেসিনে সেলাই করে কাপড়ের ব্যাগ তৈরি করে বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করেন। তাদের তৈরি ব্যাগ সাতক্ষীরা শহরসহ জেলার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিক্রি হচ্ছে। সাতক্ষীরা শহরের লেক ভিউ, ভাগ্যকুল, আল-বারাকা, প্রিয় গোপাল, মাওয়া চাইনিজ, নুসরাত ফ্যাশন, জায়হুন, আদি ঘোষ ও সাগর সুইটসসহ ৩০টি নাম করা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান 'প্রেরণা'র তৈরি ব্যাগে পণ্য সরবরাহ করে। এই সব দোকানের লেভেল লাগিয়ে তারা ব্যাগ তৈরি করে। প্রতিটি ব্যাগ ৩ টাকা থেকে শুরু করে ১২ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। প্রতি মাসে ১ থেকে দেড় লাখ পিস ব্যাগ তৈরি করে সরবরাহ করে 'প্রেরণা'র নারীরা। আর এ থেকে যা উপার্জন সব এই কর্মীদের প্রয়োজনে ব্যয় হয়।

তিনি আরও বলেন, আমার একার পক্ষে বাংলাদেশের সব অসহায় ও বিধবা নারীদের ভাগ্য বদল করা সম্ভব না। এজন্য বাংলাদেশের সকল বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে বাংলাদেশ সব অসহায় ও বিধবা নারীদের অন্যের উপর নির্ভর করে চলতে হবে না।

আন্দোলন৭১/জিকে/এস