ঢাকা বুধবার,২১,আগস্ট, ২০১৯

এ কেমন শ্রাবণ!

image

কমল চন্দ্র রায়-

'ঘাম ঝরে দরদর গ্রীস্মের দুপুরে খাল বিল চৌচির, জল নেই পুকুরে। মাঠে ঘাটে লোক নেই, খাঁ খাঁ করে রোদ্দুর। পিপাসায় পথিকের ছাতি কাঁপে দুদ্দুর। রোদ যেন নয়, শুধু গনগনে ফুলকি। আগুনের ঘোড়া যেন ছুটে চলে দুলকি। ঝাঁঝ মাখা হাওয়া এসে ডালে দেয় ঝাপটা! পাতা নড়ে ফুল পড়ে বাপরে কি দাপটা! বিল ধারে চিল বসে’ ঘন ঘন ডাকে রে। মাঝি বসে ঢুল খায় খেয়াঘাট বাঁকে রে।' ফজলুর রহমারের 'গ্রীস্মের দুপুরে' কবিতা দিয়ে শুরু করতে হয়।

এ কেমন দিন আসলো? শ্রাবণে বৃষ্টি পড়ে না! গরমে হাঁস ফাঁস লাগে। আসলেই তো, এ কেমন শ্রাবণ! বাড়ি থেকে বের হলেই গরমে ঝলসে যেতে হয়। বাড়িতে যে খুব আরাম তা না, সীদ্ধ হতে হয় ছায়ার মধ্যে বসেও।

অবশ্য শ্রাবণের দোষ দেব কেন? প্রকৃতির ভারসাম্য আমরাই নষ্ট করেছি। নিজের ইচ্ছা মতো গাছ কেটেছি, বানিয়েছি কাঁচ দিয়ে সুউচ্চ ভবন, সেখানেই বসিয়েছি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র। ঘরের ভেতর তো ঠান্ডা করেছে, প্রসঙ্গত কারনে একই সঙ্গে উষ্ণ করেছে চারপাশ। প্রকৃতিকে ক্ষতবিক্ষত করে, জলবায়ুর ভারসাম্য নষ্ট করে দিয়ে এখন আমরাই উল্টো দোষারোপ করি। শ্রাবণে বৃষ্টি নেই-শীতে ঠান্ডা নেই কেন? কিংবা গ্রীস্মে ঝড়ো বাতাস নেই কেন? কী অদ্ভুত দ্বিচারিতা আমাদের!

যাই হোক, দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় ৬ জুলাই মঙ্গলবার পর্যন্ত তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রী। আগামী ৪৮ ঘণ্টা আবহাওয়া অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আবহাওয়া সংস্থার তথ্য সূত্রে জানা যায়, তাপমাত্রা আরও কিছুদিন চলতে থাকবে। তবে কোন কোন স্থানে হালকা বৃষ্টিপাত হতে পারে। কয়েকদিনের প্রচন্ড গরমে মানুষের জীবন অতিষ্ঠ ও বিপর্যস্ত। পরিস্থিতি প্রকট করে তুলেছে দিনা-রাত বিদ্যুৎ লোডশেডিংও এতে চরম বিপাকে পরেছে সাধারন মানুষ। অসহনীয় গরম থেকে পরিত্রাণ পায়নি পশু-পাখি পুকুর কিংবা ডোবায় নেমে শরীরে পানির ফুলকীতে কিছু সময় শান্তির প্রয়াস নিতে দেখা গেছে। সুর্যের তাপ থেকে বাঁচতে কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছে গাছ তলায়।

গরমের সঙ্গে তালমিলিয়েছে এসময়ের বিভিন্ন রোগ-বালাই যেমন ডায়রিয়া ও দীর্ঘ মেয়াদী জ্বর। অনেকেকে ডেঙ্গু ভাইরাস জ¦র ভেবে ভীড় করতে দেখা যায় সরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং প্রাইভেট চেম্বারগুলোতে।

এমতাবস্থায় জরুরী প্রয়োজন ছাড়া রোদের মধ্যে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

আন্দোলন৭১/এস