ঢাকা সোমবার,২৩,সেপ্টেম্বর, ২০১৯

কচুয়ায় পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষকরা

image

মো: রাছেল-

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক। সোনালী আঁশ হিসেবে খ্যাত পাট চাষ এখন অনিহার পথে যাচ্ছে দিন দিন। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে কৃষি জমি অকৃষিতে পরিণত হওয়া ও স্বল্প সময়ে জমিতে অধিক ফসল ফলানোর প্রবণতা বা পাট পঁচানোর পানি সংকটসহ বিভিন্ন কারণে পাট চাষ যেন এখন কৃষকের অবহেলায় পরিণত হচ্ছে।

প্রতি বছরই পাট চাষের জমি কমছে। এবার ভরা মৌসুমেও পাট মিলেনি উপজেলার হাট বাজার গুলোতে। ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেক পাট চাষি পাট চাষ বন্ধ করে দিয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার উত্তরাঞ্চলে গিয়ে দেখা গেছে, পাট নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। কেউ পাট থেকে আঁশ আলাদা করছেন। কোথাও চাষিরা পাট কাটছেন ও পানিতে জাগ দিচ্ছেন।

কচুয়া উপজেলার কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছরই পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা দিন দিন  কমছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ৩শ ৮০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কৃষি বিভাগের দেওয়া হিসেব মতে প্রতি বছরই পাট চাষের আবাদ জমি কমছে।

পাট চাষি শহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে কৃষি কাজের সাথে জড়িত আছি।

তিনি বলেন  আগে শুধু পাট চাষ করেই সংসার খরচ চালাতাম, কিন্তু এখন পাট চাষ করে খরচের টাকাও উঠে না, আর সংসার চলবে কি করে । বর্তমানে ৩৫০-৪০০ জন ছাড়া কেউ পাট চাষ করে না। এখন সবাই পাট চাষের বদলে ধান চাষ করে। এবছর প্রতিমণ পাট বিক্রি হয় ৭শ থেকে ৭৫০ টাকা পর্যন্ত। এ দামে পাট বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠে না।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, পাট চাষে কৃষকরা বেশি লাভবান হচ্ছে না । বিগত বছরের তুলনায় এবছর পাট চাষীরা ন্যায্য মূল্যে থেকে দাম পাচ্ছে না তাই পাট চাষের আবাদ করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে পাট চাষীরা। তাছাড়া এ উপজেলায় পাট চাষ করার মত জমির পরিমাণ বেশি থাকা সত্ত্বেও দাম না পাওয়ার কারনে কমে যাচ্ছে পাট চাষ। পাট চাষের আগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে চাষিদের গঠনমূলক পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে।

আন্দোলন৭১/এস