ঢাকা বুধবার,২১,আগস্ট, ২০১৯

কথা শোনেনি নগরবাসী, রাস্তাই পশু জবাই

image

কাজী জোবায়ের-

নির্ধারিত স্থানে কোরবানি দিতে এবং যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন দুই মেয়র। এজন্য সিটি করপোরেশনের প্রত্যেক ওয়ার্ডে পশু জবাই করার জন্য স্থান নির্ধারন করে দেওয়া হয়। তবে মেয়রদের আহ্বানে সাড়া দেয়নি নগরবাসী। বাড়ির সামনে ও রাস্তাই পশু জবাই করতে দেখা গেছে বেশিরভাগ মানুষকে।

সোমবার (১২ আগস্ট) দেশজুড়ে ঈদুল আযহা উদযাপন চলছে।  ঈদের জামাত শেষে পশু জবাইয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন দেশের মুসলমান সম্প্রদায়। এসময় রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই না করে রাস্তাই পশু জবাই করতে দেখা গেছে।

বনশ্রীর বাসিন্দা সুরুজ মিয়া। তার এলাকায় কোরবানি দেওয়ার জন্য নির্ধারিত স্থান রয়েছে। সেখানে পশু জবাই না করে বাড়ির সামনে রাস্তাই পশু জবাই করেন। কেন তিনি নির্ধারিত স্থানে গেলেন না কারণ হিসেবে বলেন, আমার আগ্রহ নেই। ওইসব জায়গায় ভিড় থাকে। ঝামেলা মনে হয়। এখানে জবাই করেছি, পরে নিজেই পরিষ্কার করে ফেলবো।

পশু জবাইয়ের নির্দিষ্ট স্থান ফাঁকা।

উত্তর সিটি করপোরেশন এ বছর মহাখালী পশু জবাইখানাসহ ২৭৩টি স্থানে পশু কোরবানির ব্যবস্থা করেছে। এছাড়া কোরবানি করা যাবে এ রকম ৪০০টি স্থান চিহ্নিত করে দিয়েছে। আর দক্ষিণে ৬০২টি স্থান পশু কোরবানির জন্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের হিসাবে কোরবানির ঈদে ঢাকায় পাঁচ লাখের মত পশু কোরবানি হয়। এসব পশুর বর্জ্য সরিয়ে নিতে মাঠে রয়েছেন দুই সিটি করপোরেশনের প্রায় ১৮ হাজার পরিচ্ছন্ন কর্মী।

মহাখালী পশু জবাইখানায় যারা কোরবানির পশু নিয়ে আসবেন, তাদের পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুত বাবদ ২৫ শতাংশ খরচ সিটি করপোরেশন বহন করবে বলে জানিয়েছেন উত্তরের মেয়র।

বাড়ির সামনে রাস্তাই কয়েকটি পশু জবাই করা হচ্ছে। ছবি: কাজী জোবায়ের

ঈদের দিন সকাল থেকে দুই সিটির বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড ঘুরে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্থানের তুলনায় বাসাবাড়ির সামনে কিংবা সড়কেই কোরবানি বেশি দিতে দেখা যায়। আর নির্ধারিত স্থানগুলোকে বেশ ফাঁকা অবস্থায়ই দেখা যায়। এমন অনেক নির্ধারিত স্থান রয়েছে যেখানে প্যান্ডেল করে নির্দেশনা লেখা থাকলেও একটি পশুও কোরবানি দেয়নি কেউ।

নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই না করা প্রসঙ্গে এক এক জন দিচ্ছেন এক এক ব্যাখ্যা। নিজেদের বাড়ি থেকে সেসব স্থান দূরে হওয়াকে দায়ী করছেন অনেকে। অনেকেই আবার মাংস পরিবহনের ঝামেলা এড়াতে ও সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখতে না পারায় নিজেরাই নিজেদের মতো করে কোরবানি দিচ্ছেন।

আন্দোলন৭১/এস