ঢাকা মঙ্গলবার,১৭,সেপ্টেম্বর, ২০১৯

কলাপাড়ায় আ’লীগে যোগ দেয়া হাইব্রীড নেতারা বিপাকে

image

পটুয়াখালী প্রতিনিধি-

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিএনপি, জামাত, জাতীয় পার্টি (এ) ও ফ্রিডম পার্টি থেকে আওয়ামীলীগে যোগ দেয়া কয়েকশত’ হাইব্রীড নেতা-কর্মীরা এখন বিপাকে পড়েছেন। সভা-সমাবেশ ও দলীয় অফিসে তাদের উপস্থিতি তৃনমূলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের কাছে ক্রমশ: অগ্রহনযোগ্য হয়ে উঠেছে।

এছাড়া দলের কেন্দ্রীয় সংসদকে অন্ধকারে রেখে নেতার ব্যক্তি স্বার্থে দলে যোগ দিয়ে বিশেষ নেতার পকেট ভারী করা এসব হাউব্রীডরা এখন তোপের মুখে পড়েছেন। এদের কেউ কেউ মূল দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্বলাভ সহ স্থানীয় সরকার পরিষদের জনপ্রতিনিধি বনে গেছেন, যাদের বিরুদ্ধে বিরোধী দলে থাকাকালীন সময়ে আওয়ামীলীগ অফিস, সভা-মঞ্চ ভাঙচুর করা সহ নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামীলীগে যোগ দেয়া এসকল সুবিধাবাদী হাইব্রীডদের নামের তালিকা তৈরী করে ব্যবস্থা গ্রহন এখন সময়ের দাবী হয়ে উঠেছে।

আওয়ামীলীগ সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদন ছাড়া কোন পর্যায়েই আওয়ামী লীগে যোগদান অবৈধ বিবেচিত হবে। ইতিমধ্যে যারা স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন, তারা আওয়ামী লীগের সদস্য হবেন যদি কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী সংসদ অনুমোদন দেয়।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ গনমাধ্যমকে বলেছেন, ‘ইতিমধ্যে ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ে অন্যদল থেকে যারা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে, আমরা তাদের যোগদান মূল্যায়ন করবো। তারা যদি কোন অপরাধ, সন্ত্রাস বা জঙ্গীবাদের সঙ্গে জড়িত থাকে, সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় কমিটি তার যোগদান অনুমোদন দেবে না। ওই ব্যক্তি এখন আওয়ামী লীগের সদস্য থাকবেন না।’

হানিফ আরও বলেন,‘ নতুন করে আওয়ামী লীগে যোগদানের আগে ঐ অঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদকের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। সাংগঠনিক সম্পাদক যোগদানে ইচ্ছুকদের তথ্য দলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে জানাবেন। এটা যদি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি অনুমতি দেয় সেক্ষেত্রেই তার যোগদানের অনুষ্ঠানিকতা করা হবে।’

এদিকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করার পর পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) নির্বাচনী এলাকার ত্যাগী ও পরীক্ষীত নেতা-কর্মীদের উপেক্ষা করে ভাগ্নে রুহুল, ভাগ্নি জামাই আবু সালেহ, মামাতো ভাই ইউসুফ, বোন জামাই মজিবর, নাতি জামাই লাল বাচ্চু সহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন বেষ্টিত হয়ে অবৈধ পন্থায় বিত্ত-বৈভব অর্জনে ব্যস্ত সময় পার করেন সাংসদ মাহবুবুর রহমান। মেতে ওঠেন সংবর্ধনার নামে উপঢৌকন গ্রহন ও বিএনপি-জামাত-জাতীয় পার্টি থেকে দলে যোগদান নিয়ে স্বার্থ হাসিল করতে।

এতে আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশের সুযোগ লাভ করেন বিএনপি নেতা মকবুল দফাদার, মন্নান খান, বাচ্চু গাজী, লিটন গাজী, ছালাম প্রফেসর, মনিরুল ইসলাম, মোতালেব ফকির, রনি ফকির, মিজানুর রহমান বাচ্চু, জসিম আকন, আবদুর রউফ, মন্নান পাহলান, জাফর মুসুল্লী, হানিফ রাঢ়ি, শাহজাহান খলিফা, ফজলু হাওলাদার, আ: রহমান মেম্বর, মাওলানা লতিফ নেছারী, শাহালম হাওলাদার, জালাল আকন, ওহাব হাওলাদার, মোশারেফ মুসুল্লী, জসিম ভূঁইয়া, কালাম ফরাজী, ছলেমান ফকির, আক্কাস হাওলাদার, আলম ফকির, আমজেদ হোসেন ফকির, রফিক হাওলাদার, মনির ঢালি, শফিকুল আলম শফি, সামসুল আলম, শাকিল মৃধা, কালাম ফরাজী, দেলোয়ার মেম্বর, টেনু মৃধা, জাপা নেতা কালাম প্রফেসর, অধ্যক্ষ হাবিব মাওলানা, শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস, ইউসুফ আলী মিয়া, মীর তারিকুজ্জামান তারা, সুলতান মেম্বর, সুলতান খান, আলম সিকদার, মহিপুর থানা ইউনিট জাপা সভাপতি আনোয়ার হাওলাদার ও জামাত রোকন মজিবর সহ কয়েকশত’ নেতা-কর্মী।

আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশকারী এসকল হাইব্রীড নেতা-কর্মী অনেকের নামে হত্যা, ধর্ষন, টেন্ডার বানিজ্য, জমি দখল, শালিশ বানিজ্য, নিয়োগ বানিজ্য, মাছের ঘের দখল, নদী-জলাশয় দখল, ফসলী জমিতে ইটভাটা তৈরী, মাদক কানেকশন, সমবায় ব্যাংক লি:, সাপ্লাই এন্ড সেল সোসাইটি, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, স্কুল কলেজ-মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সহ লাভ জনক সব প্রতিষ্ঠানে আসীন হয়ে ত্যাগী নেতা-কর্মীদের কোনঠাসা করে আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অপরদিকে ২০১৬ সালে বগুড়া স্থানীয় বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু আওয়ামী লীগে যোগ দেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে অন্ধকারে রেখে স্থানীয় এমপি এবং শাজাহানপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এই যোগদানের ঘটনা ঘটান। আতোয়ার স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউসুফ আলীকে মারধর করেন। এতে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এরকম পরিস্থিতিতে কোনঠাসা হয়ে পড়ছে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের ত্যাগী এবং পরীক্ষীতরা।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি-জামাত থেকে যারা ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে তাদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই তালিকায়। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আন্দোলন৭১/পলাশ/জিকে