ঢাকা সোমবার,২৩,সেপ্টেম্বর, ২০১৯

কলাপাড়ায় আ'লীগে পদ পেতে সক্রিয় হাইব্রিডরা

image

গোফরান পলাশ-

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ক্ষমতাসীন দল আওয়মী লীগের নতুন কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় দলের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশকারী হাইব্রীড নেতা-কর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছে। দলের প্রভাবশালী নেতাদের রাজী-খুশী রাখতে তেলবাজিসহ ফেসবুকে নেতার গুনকীর্তন এখন তাদের রুটিন ওয়ার্কে পরিনত হয়েছে।

দলীয় কার্যক্রমে সম্প্রতি এদের তৎপরতা আশংকাজনক হারে বেড়েছে। এমনকি জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলের মালা দিয়ে এদের দু’একজনের বিদ্রুপাত্মক হাসির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তুললেও বিএনপির খোলস ছেড়ে আওয়ামী লীগার হতে এরা যেন রীতিমত প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এরা এখন দৌড় ঝাঁপ শুরু করেছে দলের হেভিওয়েট নেতাদের বাসা ও অফিসে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সাংসদ মো: মাহবুবুর রহমান পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর থেকে আ’লীগ ও সহযোগী সংগঠনে তার হাত ধরে অনুপ্রবেশ ঘটে বিএনপি, জামাত ও জাপা নেতা-কর্মীদের। দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের সাইড লাইনে রেখে মূল্যায়ন শুরু হয় দলে অনুপ্রবেশকারীদের।

হাইব্রীড বোন জামাই, ভাগ্নী জামাই, ভাগ্নে, কাজিনসহ ব্যক্তি স্বার্থে দলের গুরুত্বপূর্ন পদে আসীন হতে শুরু করে এসব অনুপ্রবেশকারীরা। গড়ে তোলা হয় বহুল আলোচিত গঙ্গামতি, আন্ধারমানিক এন্টারপ্রাইজ। ঠিকাদারী কাজ নিয়ন্ত্রনে দলে সৃষ্টি করা হয় অনুসারী ক্যাডার গ্রুপ। প্রভাষক এক নাতি জামাইকে দিয়ে গড়ে তোলা হয় থ্রি-ষ্টার ঠিকাদারী গ্রুপ। কোটি টাকার কম দরপত্রের কাজগুলো সম্পন্ন করা হয় এ গ্রুপ দিয়ে। দৃশ্যমান উপার্জন ছাড়াই কোটিপতি বনে যায় ডজন খানেক অনুপ্রবেশকারী আত্মীয় ও অনুসারী ক্যাডার।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দুদকের জালে ফেঁসে মন্ত্রী পরিষদে জায়গা না পেলেও তার হাত ধরে দলে আবারও অনুপ্রবেশ ঘটে বিএনপি-জামাত নেতা কর্মীর। মূল দল ও সহযোগী সংগঠনের কমিটিগুলোর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ন পদ দেয়া হয় এদের। জনপ্রতিনিধিও বনে যায় এদের কেউ কেউ। কমিটি থেকে বাদ পড়ে যায় হাত হারোনো কালামসহ বিএনপি-জামাত শাসনামলে মামলা-হামলায় নির্যাতিত নেতা-কর্মীরা।

এভাবে চলে দীর্ঘ বছর। এরপর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্থানীয় রাজনীতির নিয়ন্ত্রন হারায় মাহবুবুর রহমান। বিপাকে পড়ে তার অনুসারীরা।

এরপর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অধ্যক্ষ মো: মহিব্বুর রহমান স্থানীয় সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর নড়ে চড়ে ওঠে আ’লীগ ও সহযোগী সংগঠনে কোনঠাসা হয়ে থাকা নেতা-কর্মীরা। রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন আ: মোতালেব তালুকদার, অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস, অধ্যক্ষ সৈয়দ নাসির উদ্দীন, সৈয়দ আকতারুজ্জামান কোক্কা, আ: মালেক আকন, সৈয়দ মশিউর রহমান শিমু, ভিপি জিয়া, শাহরিয়ার সবুজ, আশিক তালুকদার, মাসুদ নিজামী, মনিরুল ইসলাম, নাসির উদ্দীন বিপ্লব সহ শতাধিক নেতা-কর্মী।

রাজনীতির ব্যবসা-বানিজ্যে নিস্তেজ হয়ে পড়েন ইউসুফ আলী, আবু সালেহ, জামাত মজিবর, রুহুল আমিন, হাবিব মাওলানাসহ কয়েক ভাগ্নে, ভাগ্নে জামাই ও নাতি জামাইরা।

তবে দলে ফের অনুপ্রবেশ ঘটে জাপা আনোয়ার, কৃষকদল দেলোয়ার, টেনু মৃধা, প্রভাষক শাহালম ও মকবুল দফাদারদের।

দলীয় কমিটি গঠনের লক্ষে সম্মেলন প্রস্তুত কমিটি গঠনের পর থেকে ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে হাইব্রীডরা। এরা এখন দলের উপজেলা, থানা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন কমিটির গুরুত্বপূর্ন পদ পেতে লবিং তদ্বিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ কেউ আবার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার কমিটি, নিয়োগ, মাটির কাজ, ঠিকাদারী কাজ বাগিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার ছক কষছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সংসদের চলতি অধিবেশন শেষে যেকোন দিন থেকে সাংসদের উপস্থিতিতে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া ও সম্মেলনের তারিখ নির্ধারন করা হতে পারে। এতে উপজেলা ও থানা কমিটির মূল দলের গুরুত্বপূর্ন পদে আসীন হতে পারেন সাংসদ অধ্যক্ষ মো: মহিব্বুর রহমান ও তার স্ত্রী অধ্যক্ষ ফাতেমা আক্তার রেখা, আ: মোতালেব তালুকদার, এসএম রাকিবুল আহসান, অধ্যক্ষ সৈয়দ নাসির উদ্দীন, অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস, বিপুল চন্দ্র হাওলাদার, সৈয়দ আকতারুজ্জামান কোক্কা, আবদুল মালেক আকনসহ বেশ কিছু প্রভাবশালী নেতা-কর্মী।

এতে মাহবুব অনুসারী হাইব্রীড শিবিরে কিছুটা ভাটা পড়লেও সদ্য দলে যোগ দেয়া হাইব্রীডরা রয়েছেন অনেকটাই সক্রিয়।

এদিকে দলের ত্যাগী একাধিক নেতা-কর্মী জানান, আ’লীগ বিরোধী দলে থাকাকালীন সময়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্যাতনকারী জামাত-বিএনপি-জাপার বেশ কিছু নেতা-কর্মী দলে অনুপ্রবেশ করলেও তারা যেন মূল দল ও সহযোগী সংগঠনের পদ লাভ করতে না পারে সেজন্য দলীয় ত্যাগী নেতা-কর্মীদের সচেতন থাকতে হবে।

এছাড়া বঙ্গবন্ধুর খুনী পরিবারের কেউ যাতে কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত হতে না পারে সে ব্যাপারেও সজাগ থাকতে হবে দলের সকলকে।

আন্দোলন৭১/এস