ঢাকা মঙ্গলবার,২০,আগস্ট, ২০১৯

কাশ্মীরে ঈদের নামাজ আদায়ে মোদি সরকারের বাধা

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক-

কাশ্মীরের ও শ্রীনগরের বেশিরভাগ মসজিদে ঈদের নামাজ আদায়ের অনুমতি দেয়নি দেশটির সরকার। ফলে ভারতের একমাত্র মুসিলমি সংখ্যাগরিষ্ঠ ‘রাজ্যটিতে’ ঈদের কোনো আমেজ নেই বলে জানিয়েছে ভারতীয় টেলিভিশন এনডিটিভি।

নিরাপত্তা চৌকি, নজরদারি আর কারফিউয়ের ঘেরাটোপে বন্দি হয়ে পড়েছে কাশ্মিরিদের ঈদের আনন্দ। প্রতি বছরই ঈদুল আজহার অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকে উৎসবের ঢেউ লেগে যায় উপত্যকায়। দলবেধে মানুষ বাজারে যায়; পোশাকসহ বিভিন্ন সাজসরঞ্জাম কেনে। বেকারির দোকানগুলোতে সাজসাজ রব পড়ে যায়। তবে এবারের বাস্তবতা একেবারেই আলাদা।

সরকারের পক্ষ থেকে কাশ্মিরিদের ঈদ উদযাপনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হলেও পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। শ্রীনগরের বেকারিগুলোতে প্রতি বছর ঈদের আগের দিন পণ্য ফুরিয়ে যায়, সেখানে এবার প্রতিবারের তুলনায় ১০ ভাগ পণ্যও বিক্রি হয়নি। সোমবারের ঈদকে সামনে রেখে পোশাক-পরিচ্ছদও তেমন একটা কিনতে দেখা যায়নি কাউকে। কোরবানির পশু বিক্রির হারও প্রতিবারের তুলনায় একেবারেই নাজুক।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর কাশ্মির অশান্ত হয়ে ওঠে। শুক্রবার শিথিল করা হলেও রবিবার নতুন করে কারফিউ জারি করা হয়। এনডিটিভি জানিয়েছে, সোমবার ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে ছোট ছোট কিছু মসজিদে। রাজধানী শ্রীনগরসহ বড় বড় মসজিদগুলোতে ঈদের নামাজ পড়ার অনুমতি দেয়নি দেশটির সরকার। সরকারের তরফ থেকে অবশ্য মুসলিমদের ঈদের নমাজ আদায়ের বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজ্যটির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিসহ জ্যেষ্ঠ বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ, যারা গত সপ্তাহ থেকে গ্রেফতার রয়েছেন, তাদেরকে স্থানীয় মসজিদগুলোতে নামাজ আদায়ের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

গত ৫ আগস্ট নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কট্টর হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের সাংবিধানিক বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে এবং রাজ্যটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করে। তার আগে থেকেই কাশ্মীরের মানুষকে রীতিমতো বন্দি করা হয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে সামরিকায়িত একটি এলাকা হলো কাশ্মীর। সেখানে লাখো সেনা মোতায়েন রয়েছে। এর মধে কাশ্মীরকে দিখণ্ডিত করার ঘোষণা দেয়ার আগে সেখানে আরও ৩৫ হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। গত শনিবার কারফিউ কিছুটা শিথীল করা হলে অনেক মানুষ শ্রীনগরে ঈদের কেনাকাটা করেন বলে জানা গেছে।

তবে সূত্রের বরাত এনডিটিভি জানিয়েছে, গতকাল রোববার ফের কারফিউ জারি করার পর রাজ্য পুলিশ লাউড স্পিকারের মাধ্যমে মানুষজনকে তাদের ঘরে ফিরে যেতে বলছে। স্থানীয় যত ব্যবসায়ী আছে তাদের সবাইকে দোকানপাট বন্ধ করে দিতে নির্দেশ দেয় পুলিশ।

হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী কাশ্মীর উপত্যকায় রয়েছেন। মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট পরিষেবা এখনও বন্ধ রয়েছে। ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে থাকা অনেক কাশ্মীরি তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। তারা ঈদে বাড়িতেও ফিরতে পারেননি।

আন্দোলন৭১/কাজী