ঢাকা বুধবার,২১,আগস্ট, ২০১৯

কুয়াকাটায় শত কোটি টাকার সরকারী জমি প্রভাবশালীদের দখলে

image

গোফরান পলাশ, পটুয়াখালী থেকে-

কুয়াকাটায় আইনী জটিলতা আর ভূমি প্রশাসনের রহস্যজনক উদাসীনতায় উদ্ধার করা যাচ্ছে না সরকারের শত কোটি টাকার খাস জমি। অবৈধ দখলদাররা তাদের রেকর্ডীয় জমির সাথে সরকারের শত কোটি টাকার খাস জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মান করে বছরের পর বছর ভোগদখলে রাখলেও সরকারের স্বার্থ রক্ষায় স্থানীয় ভূমি প্রশাসনের কোন উদ্যোগ নেই।

সরজমিনে জানা যায়, কুয়াকাটার জিরো পয়েন্টের খাস সম্পত্তিতে পর্যটন মার্কেটের নামে দখলদাররা অবৈধ ভাবে আবাসিক হোটেল, রিসোর্টসহ বহুতল ভবন নির্মাণ করে ব্যবসা বানিজ্য চালিয়ে আসছে। এসব আবাসিক হোটেল ও বহুতল ভবনের পৌরসভা কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোন অনুমোদন না থাকলেও দখলদারদের বিরুদ্ধে কোন আইনী পদক্ষেপ না নেয়ায় সরকারী সম্পত্তি দখলে তারা আরও উৎসাহিত হচ্ছে। সরকারী জমিতে আবাসিক হোটেল সী-কুইন কর্তৃপক্ষ বর্তমানে রির্সোট ও বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ করছে। স্থানীয় ভূমি অফিস দায় সারা গোছের বাধাঁ দিয়ে আসলেও থেমে নেই সরকারী জমি দখল করে বহুতল ভবনের নির্মান কাজ।


কুয়াকাটায় আইনি জটিলতা আর ভূমি প্রশাসনের রহস্যজনক উদাসীনতায় উদ্ধার করা যাচ্ছে না সরকারের শত কোটি টাকার খাস জমি। ছবিঃ আন্দোলন৭১ ডট কম।

১৯৯৭ সালের প্রথম দিকে এস এ ৬৪৪ খতিয়ানের ৫৩৭৫ দাগ থেকে মং মংচুমিন তালুকদার গংদের কাছ থেকে বেড়িবাধঁ লাগোয়া ১ একর ২০ শতাংশ জমি নাম মাত্র মুল্যে ক্রয় করেন হাজী চাঁন মিয়া হাওলাদার ও ইউপি সদস্য ফজলুল হক খাঁন গংরা। যদিও ৫৩৭৫ দাগে রেকর্ডীয় জমি রয়েছে মাত্র ২৪শতাংশ। কিন্তু ওই জমিতে তারা দেড় শতাংশ করে ১৬টি প্লট তৈরী করে। তৎকালীন এমপি আনোয়ার-উল-ইসলাম একই বছরের ২৩ মার্চ সেখানে পর্যটন মার্কেট নামে নাম করন করে একটি মার্কেট উদ্বোধন করেন।

পরবর্তীতে রেকর্ডীয় জমির পাশাপাশি পাউবো ও ভূমি প্রশাসনের খাস জমি কৌশলে দখলে নিয়ে যায় প্লট মালিকরা। পরবর্তীতে এ প্লটের ও পাকা ভবনের মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে একাধিকবার। এসব জমি সরকারী দাবী করে ভূমি প্রশাসন ওয়ান ইলেভেনের সময় উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়। আবাসিক হোটেল তাজ, ক্যাসাব্যালাংকা, সান ফ্লাওয়ার, সী-প্যালেস, হোটেল সী-গার্লসহ কয়েকটি স্থাপনার আংশিক ভেঙ্গেও ফেলা হয়। মার্কেট মালিকরা তখন উচ্ছেদ ঠেকাতে রেকর্ডীয় জমি দাবী করে আদালতের শরাপন্ন হলে আদালত উচ্ছেদে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। থেমে যায় সরকারী জমি উদ্ধার অভিযান। ২৪ শতাংশ রেকর্ডীয় জমির স্থলে দুই একরেরও বেশি জমি দখলে নিয়ে যায় দখলদাররা। যার মুল্য প্রায় একশো কোটি টাকা। এরই মধ্যে বিএস জরিপকারীদের মোটা অংকে ম্যানেজ করে ৭০ শতাংশ জমি দখলদারদের নামে জরিপ করে নেয়।

উপজেলা ভূমি প্রশাসন এসব সরকারী জমিতে বহুতল ভবন তৈরীর সময় বাধাঁ দিলেও স্থানীয় ভূমি অফিসকে ম্যানেজ করে রেহাই পেয়ে যান দখলদাররা। আইনী মোকাবেলা করে এসব সরকারী জমি উদ্ধারে ভূমি প্রশাসন কিংবা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেই। সরকারের বিরুদ্ধে মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও ভূমি প্রশাসন কিছুই জানে না।


কুয়াকাটায় আইনি জটিলতা আর ভূমি প্রশাসনের রহস্যজনক উদাসীনতায় উদ্ধার করা যাচ্ছে না সরকারের শত কোটি টাকার খাস জমি। ছবিঃ আন্দোলন৭১ ডট কম।

আবাসিক হোটেল সী-কুইন মালিক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বর্তমানে পাউবো’র বেড়ি বাঁধের জমি ও ১নং খাস খতিয়ানের ২০ শতাংশেরও বেশি জমি দখল করে রির্সোট তৈরী করছেন। অথচ তিনি দখল সত্ত্বে জমি কিনেছেন মাত্র ৮শতাংশ। এ বিষয়ে কথা হয় মো. জাহাঙ্গীর আলমের সাথে। তিনি জানান, জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। মামলার ফয়সালা হলে মালিকানার জটিলতার নিরসন হবে।

জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকাকালীন কিভাবে কাজ করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর আলম আন্দোলন৭১ নিউজকে জানান, আদালত থেকে এমন কোন নির্দেশনা নাই যে তিনি কাজ করতে পারবেন না। অতিরিক্ত জমি দখলের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার জমির দুই পাশে সরকারী জমি থাকলে তা আমার ভোগদখলে থাকবে এটাইতো নিয়ম।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্যের সাথে ঢাকায় বৈঠক হয়েছে। তিনি কাজ করতে বলেছেন।

কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আ: বারেক মোল্লা আন্দোলন৭১ নিউজকে জানান, বহুতল ভবন নির্মানের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা পৌর কর্তৃপক্ষের নেই। অবৈধ দখলদাররা বিভিন্ন জনের নাম ব্যবহার করে দখল কাজ চালিয়ে আসছে। তার কাছে অভিযোগ রয়েছে সী-কুইন কর্তৃপক্ষ অবৈধ ভাবে সরকারী জমি দখল করে ভবন নির্মাণ করছেন। তিনি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বলেছেন।

কলাপাড়া উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার (ভূমি) অনুপ দাস আন্দোলন৭১ নিউজকে বলেন, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নিতে পারছেন না তারা। তবে বর্তমানে সী-কুইন কর্তৃপক্ষের করা অবৈধ ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মামুনুর রশিদ আন্দোলন৭১ নিউজকে বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে কলাপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে আইনী  পদক্ষেপ নিতে বলব।

আন্দোলন৭১/কাজী