কয়েক জোড়া থেকে আজ কয়েক'শ জোড়া কবুতর তাঁর

image

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি-

পেশা যখন নেশায় পরিণত হয় তখন সফতা আসবেই। এমনি একজন সফল ব্যক্তি  আজিজুল হক মাসুম। যিনি পেশাকে নেশায় নিয়ে সফলতা অর্জন করেছেন। কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলা সদর বাজারের মোহন শপিং কমপ্লেক্স এর ছাদে শখের বসে কবুতর পালন শুরু করে আজ তিনি একজন সফল ব্যাবসায়ী।

জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কবুতর প্রেমিকরা বিভিন্ন প্রজাতির কবুতর পালনের খবর শুনে এক নজর দেখতে ছুটে আসেন তার 'বাকবাকুম পাখির মেলা' খামারে। শত শত কবুতরের বাক-বাকুম ডাকে এবং রং বে-রংয়ের কবুতর দেখে আগতরা মুগ্ধ। তাঁর দেখাদেখি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ছোট-বড় প্রায় অনেক কবুতর খামার গড়ে উঠেছে।

বিভিন্ন প্রজাতির এত বড় কবুতর পালনের খামার এ উপজেলায় আর কোথাও নেই বললেই চলে। মাসুম নিত্য নতুন কবুতর সংগ্রহ করার জন্য গ্রাম থেকে গ্রামে এবং শহরের বিভিন্ন জায়গায় ছুটে যান। নতুন কবুতর সংগ্রহ এবং যে সব কবুতর দেশে বিলুপ্তির পথে সে সব কবুতর সংগ্রহ করা হচ্ছে তাঁর এক রকম নেশা।

খামারি মাসুম আন্দোলন৭১ নিউজকে বলেন, ২০১৪ সালে  সখের বশে কয়েক জোড়া দেশী কবুতর কিনে পালন শুরু করি। এর পর থেকে আমি কবুতর পালনে ঝুকএ পড়ি এবং কবুতর পালন দিয়ে খামার তৈরির চিন্তা শুরু করি। ২০১৫ সালে ছোট একটি খামার দিয়ে কবুতর পালন শুরু করি। ২০১৭  সালে আমি তা বানিজ্যিক ভিত্তিতে কবুতর খামার শুরু করি। আমার খামারে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৮০০ কবুতর রয়েছে। এ খামারের আয় দিয়ে নিজের পরিবারের খরচ এবং খামারে কর্মরত কয়েকজন কর্মচারীর পরিবার চলে ।  

এ খামারে সিরাজি, হুমা, চুন্নি, গিরেবাজ, লোটন, ময়ুরি, ফুটারবল, বাগদাদী হুমা, নুরেনবার্গ লার্ক, কিং, আউল, বিউটিহুমার সহ প্রায় ২০ প্রজাতির কবুতর রয়েছে। বর্তমানে এ সব কবুতরের বাজার মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকার মত। এছাড়াও প্রতি জোড়া কবুতরের মূল্য ১ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত।   

প্রতি মাসে খামারের বিভিন্ন প্রজাতির কবুতর থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জোড়া বাচ্চা পাওয়া যায়। যার বাজার মুল্য ২০-২৫ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতিদিন কবুতর কে গম, খেসারি, শষ্য, খাবার দিতে হয়। ওষুধ ও বিভিন্ন খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে আয় ৩০-৪০ হাজার টাকা। এসব কবুতরের মধ্যে লাল সিরাজি কবুতরের কদর অনেক বেশি। বর্তমানে এই কবুতরের মুল্য জোড়া প্রতি ২০-৩০ হাজার টাকা। এ ছাড়া এই লাল সিরাজি বড় জাতের কবুতর বাজারে পাওয়া খুবই কঠিন। হুমা প্রজাতির কবুতর ও বর্তমানে দেশ থেকে বিলুপ্তির পথে। 

তিনি আরও বলেন, কবুতর পালন করতে গিয়ে অনেক টাকার কবুতর চুরি হয়। এ ছাড়াও রানীক্ষেত, ঘাড় বাকা, ভাইরাস জনিত রোগসহ বিভিন্ন প্রতিকুলতার শিকার হয়েছি। কবুতর পালন করতে হলে খোলামেলা পরিবেশের প্রয়োজন। এতে কবুতরের বিভিন্ন সমস্যা দুর হয়। তা ছাড়া উপজেলা প্রাণী সম্পদের পক্ষ থেকে সকল রকম সহযোগিতা পেলে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হলে কবুতর রোগ মুক্ত হতে পারে। ফলে বেকারত্ব দুরিকরণ, আমিষের চাহিদা পুরন করা সম্ভব হবে।

আন্দোলন৭১/কাজী