গতকাল যে নারী, আজ সে নারী উদ্যোক্তা

image

রাতুল পিউল-

কেউ বা গৃহিণী, কেউ বা ছাত্রী, আবার কেউ বা চাকুরীজীবী। কিন্তু আজ সবাই নারী উদ্যোক্তা। নিজেদের ছোট ছোট স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রুপ দিতে আর স্বনির্ভর হয়ে নিজের পায়ে দাড়ানোই যেনো তাদের মূল লক্ষ্য।  বলছিলাম কুমিল্লা গার্লস মার্কেট ও গসিপ কুইন্স আয়োজিত 'বৈশাখী মেলা'র নারী উদ্যেক্তা এবং নারী বিক্রেতাদের গল্প।

ক্ষুদ্র নারী উদ্যেক্তা ও অনলাইন গ্রুপ গার্লস মার্কেটের এডমিন রেজুয়ানা হোসেন ভাবনাসহ আরো নয় জন নারী উদ্যোক্তার উদ্যোগে গত ২৫শে মার্চ শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী মেলাটির আজ শেষদিন। প্রথমবারের মতো কুমিল্লা নগরীর মনহরপুরের আনন্দ সিটি সেন্টারের ৪র্থ ও ৫ম তলায় এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

বাহারি সব কসমেটিক্স, প্রসাধনী আর মেয়েদের বিভিন্ন পোশাক ছিলো মেলার মূল আকর্ষন।এছাড়াও মেলায় ঘরে তৈরী বিভিন্ন রকমের আচার, পিঠা, মিষ্টি জাতীয় খাবার বিক্রি করতে দেখা যায়।

মেলার মূল উদ্যোক্তা ও অন্দর মহল স্টলের পরিচালক রেজুয়ানা হোসেন ভাবনা বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রামের মতো কুমিল্লায়ও এই মেলার আয়োজন করি যাতে ঘরে বসে থাকা গৃহিণী বা যেকোনো নারী তাদের হাতে তৈরি জিনিস ও অন্যান্য সামগ্রী প্রদর্শন করতে পারে। তাছাড়া যারা বাইরে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে না, ওরা এই মেলার মাধ্যমে নিজেদের অনলাইন বিজনেসের প্রসার ঘটাতে পারবে। 


মেলায় বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন ও আচার নিয়ে যৌথ স্টল করেছেন বশিতা ঘোষ ও রিমা কর্মকার। বশিতা'স বিস্ট্রো নামে একটি অনলাইন পেইজ চালাচ্ছেন বশিতা ঘোষ। নানা ধরনের মিষ্টান্ন, পেস্ট্রি, কুকি ইত্যাদি নিজে তৈরি করে ইতোমধ্যে অনেক জনপ্রিয়তা কুড়িয়েছেন। পেশায় চাকুরীজীবি হয়েও ঝুঁকেছেন অনলাইন বিজনেসের দিকে।


তিনি জানান, 'এই মেলায় অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে নারীদের কাজ করার একটি ফ্লোর তৈরি হচ্ছে। পরিবারের সহযোগিতা নিয়েই এগিয়ে যেতে চাচ্ছি। ভবিষ্যতে নিজস্ব মিষ্টান্ন প্রতিষ্ঠান দেয়ার পরিকল্পনা আছে।'

স্বামী শিপন ঘোষ জানান, তিনি নিজের জায়গা থেকে যতটুকু পারেন সহযোগিতা করেন নিজের কর্মজীবি স্ত্রীকে। 

একই স্টলে রয়েছে অনলাইন হেঁশেলের রিমা কর্মকার। তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। গৃহিনী মায়ের হাতে তৈরি নানা আচার, নাড়ু ও পিঠা ইত্যাদি উপস্থাপন করেছেন তিনি। 

৩২ টি স্টল ও প্রায় ৪৫ জন বিক্রেতা নিয়ে এই মেলাতে ছিলো ফটোবুথ, নারীদের জন্য ফ্রি হেয়ারকাট, মেহেদি আরও নানা আয়োজন। বিভিন্ন স্টলে ছিলো ক্রেতাদের ভিড়। 

ক্রেতা মিশকাত জাহান চৌধুরী বলেন, 'এমন মেলা হলে সুবিধা। অনলাইনে পন্য নিলে গ্যারান্টি থাকে না যে ঠিক হবে কি না। শিক্ষার্থীরা অল্প বিনিয়োগ করে স্বাবলম্বী হতে পারছে, নিজের ব্যয়ভার নিজে উঠাতে পারছে। নিঃসন্দেহে অনেক ভালো উদ্যোগ।'

উল্লেখ্য, মেলায় অংশগ্রহনকারীরা সকলেই ছিলেন নতুন নারী উদ্যোক্তা। সকলেই চায় এবারের মতো প্রতিটা পূজা,পার্বন, ঈদে এমন মেলার আয়োজন করতে। তার পাশাপাশি বাংলাদেশে নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার প্ল্যাটফর্ম তৈরী করতে।

আন্দোলন৭১/এস