ঢাকা বুধবার,২১,আগস্ট, ২০১৯

গুজবের রাজ্যে বসবাস

image

আহসান হাবীব-

পদ্মা সেতু। যা আগে আমাদের স্বপ্নের প্রকল্প ছিল তা এখন বাস্তব হতে যাচ্ছে। আর এই স্বপ্নের প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে নাকি ‘এক লাখ মানুষের মাথা লাগবে’। আমি একটি বারের জন্যেও তা বিশ্বাস করিনি। কিন্তু আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশের কিছু ‘ডিজিটাল নাগরিক’এই ভিত্তিহীন কথাকে বিশ্বার করে দেশটাকে করছে অস্থিতিশীল আর অন্যদিকে মেরে ফেলছে নিরাপরাধ মানুষগুলোকে।

‘ছেলেধরা’  সন্দেহে গণপিটুনিতে গত দুই সপ্তাহে রাজধানীসহ সারা দেশে ৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২৬ জন। দেশ আধুনিক হলেও মানুষের মাঝে এখনও সচেতনতাবোধ তৈরি হয়নি। তাই সহজেই মানুষ গুজব বিশ্বাস করছে। তাছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের ‘আস্থা’ নেই। তাই সাধারণ মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছেন হরহামেশে।

গোটা দেশে এখন চলছে ‘গলাকাটা আতঙ্ক’। এরইমধ্যে নেত্রকোনার এক ব্যাক্তি মাদকাসক্ত হয়ে নিজের এলাকার এক প্রতিবেশী শিশুর মাথা কেটে তা ব্যাগে ভরে হাঁটছিলেন। তার ব্যাগ থেকে রক্ত পড়তে দেখে যখন লোকজন জিজ্ঞেস করেন তখন সে দৌড় দেয়। এ সময় লোকজন ধাওয়া করে তাকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলেন। আর এর সাথে আমাদের ‘বুদ্ধিমান’  মানুষেরা বিশ্বাস করলেন নিশ্চয়ই লোকটি শিশুর মাথা নিয়ে পদ্মা সেতুতে যাচ্ছিল। 

এই তো গত শনিবার (২০ জুলাই) সকালের ঘটনা, ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে রাজধানীর বড্ডায় দুই সন্তানের জননী তসলিমা বেগম রেনুকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করে বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে জানা যায়, নিহত রেনু ‘ছেলেধরা’ ছিলেন না। তার ঘরে ফুটফুটে দুটি মেয়ে রয়েছে ( রেণুর ছোট মেয়ের নাম তুবা)। মেয়েদের স্কুলে ভর্তির বিষয়ে খবর নিতে গিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু আমরা নিরাপরাধ একজন মানুষকে শুধুমাত্র গুজবে কান দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করলাম। আমরা কি আদৌ মানুষ? নাকি আমাদের বিবেক-মনুষ্যত্ব লোপ পেয়েছে। তবে রাষ্ট্র এখনো তুবার (নিহত রেণুর মেয়ে) ব্যাপারে কিছু বললো না। ওর দায়িত্ব নেবে কে, কি হবে ওর ভবিষ্যৎ?  কোনো প্রতিশ্রুতি এলো না। ওই পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতেও কেউ গেলো না।

বর্তমান যুগে আপনি যদি গুজবে কান দেন। সেটা আপনার সমস্যা। আতঙ্ক থাকলে আপনার সন্তানকে ঘরে আটকে রাখুন। কিন্তু মনে রাখবেন একটি নিরপরাধ মানুষকে আপনি হত্যা করতে পারেন না। গণপিটুনিতে অংশ নেয়া প্রতিটি মানুষের বিচার চাই আমি।

‘পদ্মা সেতুর জন্য মানুষের মাথা লাগবে’; কথাটি বিশ্বাস করার আগে আপনার বিবেককে প্রশ্ন করুন, বিষয়টা কতটা সত্য? এই সময়ে এমন একটি কথা আপনি বিশ্বাস করছেন,  আপনার হাতে স্মার্ট ফোন আছে, চাইলেই পৃথিবীর সব তথ্য আপনি পেতে পারেন।

প্লিজ আপনি একটু খোঁজনিয়ে দেখুন। অন্ধের মত কিছু বিশ্বাস করবেন না। অন্তত নিরাপরাধ মানুষের গায়ে হাতে তুলবেন না।

আন্দোলন৭১/এএইচ