শুক্রবার,৫ জুন, ২০২০ অপরাহ্ন

চাণক্য: শিক্ষার্থীর সাফল্যের ৭ সূত্র

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০৪ ৩৬

সজীব সরকার- 

প্রাচীন চিন্তকদের মধ্যে যে দু-চারজনের নাম সর্বাগ্রে স্মরণ করা হয়, চাণক্য (খ্রিস্টপূর্ব ৩৭০-২৮৩ অব্দ) তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তিনি কৌটিল্য নামেও সমান পরিচিত; তবে অনেকের মতে তাঁর প্রকৃত নাম বিষ্ণুগুপ্ত। তিনি ছিলেন একাধারে একজন প্রাচীন ভারতীয় অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিশারদ ও দার্শনিক। প্রাচীন তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও রাষ্ট্রনীতির অধ্যাপক চাণক্য পরবর্তীকালে মৌর্য্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যরে উত্থানে প্রধান ভূমিকা পালন করেন। পরে তিনি চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য ও তাঁর পুত্র বিন্দুসারের রাজ-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

চাণক্যের সমাজ-দর্শন বা তাঁর ভাবনাগুলো দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি বা দর্শন বিষয়ে তাঁর মতামত বা উপদেশ-পরামর্শ রীতিমতো বেদবাক্যের মতো পালন করা হতো। তিনি শিক্ষা বিষয়েও যথেষ্ট পণ্ডিত ছিলেন; তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য থাকাকালে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্যের কারণে তিনি বেশ প্রভাবশালী ছিলেন। শিক্ষার্থীদের সাফল্যের জন্যে তিনি ৭টি সূত্র প্রস্তাব করেন :

এক. সবসময় কিছু না কিছু শেখার মধ্যে থাকতে হবে। ছাত্রাবস্থায় অলস সময় কাটানো ঠিক নয়। ছাত্রজীবনে সময়ের পরিপূর্ণ ব্যবহার করাই শ্রেয়।

দুই. যৌনতা থেকে দূরে থাকতে হবে। (তবে বর্তমান বাস্তবতায় আমরা বলতে পারি, যৌনতা শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যে বরং দরকারি; কিন্তু এ বিষয়ে অতিরিক্ত অনুরাগ বা আসক্তি থেকে মুক্ত থাকাই উচিত হবে।) না হলে, চাণক্যের যুক্তিতে, পড়াশোনায় মনোনিবেশ করা অসম্ভব হবে।

তিন. রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একজন শিক্ষার্থী কখনোই নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারালে চলবে না। নিজের রাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকা দরকার। না হলে একসময় তার মধ্যে অতিরিক্ত উন্মত্ততা এবং পরে হতাশা কাজ করতে পারে। এমন হলে তার ছাত্রজীবনে দুর্যোগ নেমে আসতে পারে।

চার. লোভ সম্বরণ করতে হবে। ছাত্রাবস্থায় শিক্ষার্থীর কাজ হলো কেবল জ্ঞানার্জনের প্রতি মনোনিবেশ করা; এর বাইরে চারপাশের জগতের বিবিধ আকর্ষণের প্রতি দুর্বল হয়ে সাড়া না দিয়ে নিজেকে সামলে রাখতে হবে।

পাঁচ. বেশি স্বাদযুক্ত কিন্তু অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিহার করা। শিক্ষার্থীদের সবসময় সুস্থ থাকা দরকার; স্বাস্থ্যহানি ঘটলে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে। তাই বেশি স্বাদের খাবারের প্রতি লোভ এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের অভ্যাস করতে হবে।

ছয়. সস্তা বিনোদনের পেছনে সময় নষ্ট করা যাবে না। ছাত্রজীবনের প্রতিটি মুহূর্ত খুব মূল্যবান; এ সময়কে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো কাজে লাগালে তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, যা ভবিষ্যতে তাদের কাজে লাগবে। আর সস্তা বিনোদনের মাধ্যমে সময় নষ্ট করলে এর পরিণতি হবে অত্যন্ত ক্ষতিকর।

সাত. পরিমিত ঘুমোতে হবে। শরীর ও মনের সুস্থতার জন্যে যতোটুকু দরকার, ঠিক ততোটুকুই ঘুমোতে হবে। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় ঘুমোলে শরীর ও মন স্থবির হয়ে পড়ে।

চাণক্যের মতে, এই নিয়মগুলো মেনে চললে একজন শিক্ষার্থী অবশ্যই সফল হবে।

লেখক : 

সহকারি অধ্যাপক; জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ; স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। লেখক ও গবেষক। (sajeeb_an@yahoo.com) 


নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Andolon71
Theme Developed BY Rokonuddin