'ঢাকার রাস্তায় এত ভাঙাভাঙি কেন?'

image

‘ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করে তুলতে আপনাদের অবহেলা রয়েছে। কিছু দিন পরপর ভালো সড়ক বিভাজকগুলো ভেঙে নতুন করে তৈরি করছেন। এত ভাঙাভাঙি কেন...নগরবাসীর কাছ থেকে প্রচুর টাকা কর নেন, কিন্তু সেই তুলনায় পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা আপনারা তাদের দিচ্ছেন না।’

বায়ুদূষণ সংক্রান্ত রিটের শুনানিকালে বুধবার (১৫ মে) বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) উদ্দেশে এসব কথা বলে।

তলব আদেশ মেনে আদালতে হাজির হওয়া দক্ষিণ সিটির সিইও মোস্তাফিজুর রহমান এবং উত্তরের আবদুল হাইকে হাইকোর্ট বলে, ‘আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা। আইন ও আদালতের আদেশ আপনাদের মানতে হবে। আপনার, আমার ও সবার বেতন হয় জনগণের করের টাকায়। ওই করের টাকায় গাড়ি-বাড়ি দেয় সরকার। সরকারি রীতিনীতি ও আইন মেনে না চললে আপনাদের জবাবদিহি করতে হবে। জবাবদিহির ঊর্ধ্বে কেউ নন।’

একটু বৃষ্টি হলেই ঢাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় উল্লেখ করে আদালত বলে, দেশ স্বাধীনের পর ৫০ বছর হতে চলল, তারপরও যদি সবকিছু সঠিকভাবে না চলে, শহরটিকে যদি বাসযোগ্য করা না যায় তাহলে কীভাবে হবে? শুধু ধুলার দূষণ রোধে পানি ছিটালেই হবে না, শহরের সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাটাও জরুরি।

মশা নিধনে পদক্ষেপ: হাইকোর্ট বলে, মশা নিধনে এখনই আপনাদের পদক্ষেপ নেয়া উচিত। যদি সেটা করতে ব্যর্থ হন তাহলে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হবে নগরবাসী। আপনারা এ দেশের সন্তান। দেশের জন্য মায়া থাকা উচিত। ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য এ ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে হবে।

আনিসুল হকের উদ্যোগ: উত্তর সিটির সিইও’র উদ্দেশে আদালত বলে, আপনি তো অভিজাত এলাকার দায়িত্বে। সেখানে বিদেশি দূতাবাসগুলো আছে। বিদেশিরা ঘনঘন সেখানে যাওয়া আসা করেন। এ এলাকার সড়কগুলো যেন আবর্জনামুক্ত থাকে সেটা আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক অনেক ভালো উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আমরা আশা করছি বর্তমান মেয়র সেগুলো এগিয়ে নেবেন।

এক মাস সময় পেলেন দুই সিইও: ধুলা হতে সৃষ্ট বায়ুদূষণ রোধে পানি ছিটানোর পদক্ষেপ বিস্তারিতভাবে প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে সিইওদের এক মাস সময় দিয়েছে হাইকোর্ট। রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে জমা দেয়া প্রতিবেদন গ্রহণ না করে পুনরায় পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয় আদালত।

আদালত বলে, ‘এটা অনেকটা গোঁজামিল দিয়ে করা হয়েছে। যথাযথভাবে এফিডেভিটও করা হয়নি।’

কর্মকর্তারা জানান, বায়ুদূষণ রোধে করপোরেশনের কর্মচারীরা ঠিকভাবে পানি ছিটাচ্ছেন কিনা তা জিপিআরএসের মাধ্যমে ট্র্যাকিং করা হয়। জবাবে আদালত বলে, ট্র্যাকার দিয়ে গাড়ি কোথায় আছে সেটা নিশ্চিত হতে পারছেন, কিন্তু পানি দিচ্ছে কিনা সেটা তো দেখতে পারছেন না। এ সময় কর্মকর্তারা সিসিটিভি ফুটেজের কথা উল্লেখ করলে আদালত বলে, সিসিটিভি আছে কিন্তু ভালোভাবে দেখা যায় না।

সরকার প্রতিটি প্রকল্পে প্রচুর টাকা বরাদ্দ দিলেও দুর্নীতির মাধ্যমে বাজে জিনিস কেনা হয় বলে মন্তব্য করে আদালত।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার এবং সিটি করপোরেশনের পক্ষে নুরুন্নাহার আক্তার উপস্থিত ছিলেন।

আন্দোলন৭১/ইউএনবি/এস