নাগরিক দূর্ভোগ লাঘবে মেয়র মহোদয় দৃষ্টি দেবেন কি?

image

গোফরান পলাশ, পটুয়াখালী থেকে-

পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরসভা এখন নাগরিক দূর্ভোগের শহর। শহরের অধিকাংশ সড়কে খানা খঁন্দক, সামান্য বৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ন সড়কে জলাবদ্ধতা, যত্রতত্র ময়লা আবর্জনার স্তুপ, সড়ক বাতির অভাবে চোরের উপদ্রব বৃদ্ধি, অপরিচ্ছন্ন ড্রেনেজ ব্যবস্থা, চাহিদা অনুযায়ী পানি সরবরাহে ব্যর্থতা, মশার উপদ্রব বৃদ্ধি, উন্নয়ন কাজে অনিয়ম ও স্বচ্ছতার অভাবে প্রতিশ্রুত ডিজিটাল পৌরসভা এখন ক্রমান্বয়ে ধাবিত হচ্ছে 'এনালগ' যুগের দিকে।

এছাড়া পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করায় নাগরিকরা তাদের দূর্ভোগ লাঘবে পৌর মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা করে একথাই বলছেন, মেয়র মহোদয় দৃষ্টি দেবেন কি?

জানা যায়, পৌর শহরের নাগরিকরা বর্ষার খানা-খঁন্দকের সড়কে যেমন ভোগান্তিতে পড়ছেন, তেমনি বিপদ সঙ্কুল অবস্থা হালকা যান চালকদের। খানা-খঁন্দকে পড়ে তাদের বাহনগুলো প্রতিনিয়ত গ্যারেজ মুখী করতে হচ্ছে সারাইয়ের কাজে। সামান্য বৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ন সড়কে জলাবদ্ধতায় সৃষ্টি হচ্ছে ছোট নালা, নদী।

নাগরিকরা তাদের বাসা-বাড়ির প্রতিদিনের ময়লা নিয়ে এখন বিপাকে। ময়লা ফেলার ডাষ্টবিন কিংবা নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় ময়লা ফেলা নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে ঝগড়া-ফ্যাসাদের সৃষ্টি হচ্ছে। 


রাতের শহরে সড়ক বাতি নেই, তাই আশংকা জনক হারে বাড়ছে চোরের উপদ্রব।

স্বল্প বেতনভোগী ক্লিনাররা ক’বছর পর পর ড্রেন পরিস্কার করছে তা নাগরিকদের মনে নেই। সকালে গোসল করে ঘর থেকে বের না হলে পানির সংকটে দুপুরে ওয়াশ রুমে আর ফ্রেশ বাথ নেয়া হচ্ছেনা তাদের।

মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় নাগরিকদের অনেকের মুখেই শোনা যায় মশার নতুন নামকরন 'ডিজিটাল মশা'।

এছাড়া অপরিকল্পিত উন্নয়নে শহরের সড়ক উন্নয়ন কাজে স্বচ্ছতার অভাবে টেকসই হচ্ছেনা উন্নয়ন কাজ। দু'একবার মাস পর পর তাই উন্নয়ন কাজের নামে লাভবান হচ্ছে গুটি কয়েক মানুষ। পৌর শহরের উন্নয়ন না হলেও আর্থিক উন্নয়ন হচ্ছে কিছু মানুষের।

সরেজমিনে জানা যায়, পৌরশহরের হাসপাতাল সড়ক, সিনিয়র মাদ্রাসা লোন্দা সড়ক, মঙ্গলসুখ-সবুজবাগ-কলেজের পেছনের সড়ক, রহমতপুর স্কুলের পেছনের হিন্দুবাড়ী সড়কসহ শহরের অধিকাংশ সড়ক নাগরিকদের স্বাভাবিক চলাচলে দূর্ভোগের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বড় বড় খানা খঁন্দকে জমে থাকা পানিতে যানবাহনের চাকা কিংবা অসাবধানতয় পা পড়ে নাগরিকদের পরিধেয় বস্ত্রে কাঁদা-পানির আল্পনা ছড়াচ্ছে।


সিনিয়র মাদ্রাসা-বাদুরতলি সড়কের আল-হেরা মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসুল্লীদের কাঁদা-পানির 'আল্পনায়' এখন ত্রাহি অবস্থা। মসজিদের সামনে সড়কের উপর একটি বড় খঁন্দকের সৃষ্টি হওয়ায় মোটর সাইকেল, বাইসাইকেল, রিকশা, অটো-রিকশা, ভ্যান, প্রাইভেট কার, পিক-আপ চলাচলের সময় কাঁদা-পানি ছিটকে যাচ্ছে মুসুল্লীদের শরীরসহ মসজিদের ভেতরে।

এছাড়া ওই খানা-খঁন্দকের উপর পড়ে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। এতে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের স্থানীয় মুসুল্লীরা কাউন্সিলর ও মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষনসহ তাদের ডিজিটাল উন্নয়নের প্রচারনা করছেন জোরে শোরে।

স্থানীয় মুসুল্লী কামাল বিশ্বাস ও আল-হেরা মসজিদের মুয়াজ্জিন নুরুল ইসলাম আন্দোলন৭১কে জানান, 'এই সড়ক দিয়ে নামাজ পড়তে আসতে হয়। মসজিদে আসা যাওয়ার পথে কাঁদা পানি ছিটকে পরিধেয় কাপড় নষ্ট হওয়াসহ মজজিদের ভেতরে নামাজ পড়ার পরিবেশ নষ্ট হয়। তাই পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবী তাদের।'

কলাপাড়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো: মিজানুজ্জামান আন্দোলন৭১কে জানান, 'পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতার দাবীতে কর্মবিরতি পালন করছেন। তাই পানি, বিদ্যুৎসহ সবধরনের নাগরিক সেবা প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছ। সরকারের কাছ থেকে দাবী আদায়ের পর থেকে সড়কে খানা খঁন্দকের সংস্কার কার্যক্রমসহ পর্যায়ক্রমে নাগরিক সেবার সকল বিষয় গুলোতে নজর দেয়া হবে।'

আন্দোলন৭১/এস

সড়ক তুমি কার, সওজ না পৌরসভার?