নারীদের খুন করে ছবি এঁকে রাখতেন তিনি

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক-

তিন খুনের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল আদালত। কিন্তু এবার ৬০টিরও বেশি হত্যার দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার কারাগারে থাকা ৭৯ বছরের খুনি স্যামুয়েল লিটল।

টেক্সাসের একাধিক নারীকে হত্যার ঘটনার কোন সমাধান পাওয়া যায়নি। কিন্তু এই ঘটনার সঙ্গে সন্দেহভাজন হিসেবে টেক্সাসের রেঞ্জার জেমস হল্যান্ড কারাগারে গিয়ে বারবার লিটলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

অবশেষে টেক্সাস এবং আশেপাশের ৬০ জনেরও বেশি নারীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন লিটল। স্থানীয় সময় শুক্রবার এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওহাইওর বেশ কয়েকজন আইনজীবী।

এতদিন পর্যন্ত গ্যারি রিজওয়ে ওরফে গ্রিন রিভার কিলারকেই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সাংঘাতিক সিরিয়াল কিলারের অ্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল। লিটলের স্বীকারোক্তির পর আপাতত তাকেই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে নৃশংস সিরিয়াল কিলার বলছে পুলিশ।

লিটল স্বীকার করেছেন যে, গত চার দশক ধরে ৬০ জনেরও বেশি নারীকে শ্বাসরোধ করে বা বেধড়ক মারধর করে খুন করেছে সে। নিহত প্রত্যেকের ছবি রং তুলিতে এঁকে তাদের মুখে পেন্সিল দিয়ে অজস্র দাগ কেটেছিল লিটল। খুন হওয়া প্রত্যেকের চোখের রং, চুলের স্টাইল এবং কোথায় তাদের সে খুন করেছিল তাও পুঙ্খানুপুঙ্খ জানিয়েছে লিটল।

টেক্সাসের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ববি ব্ল্যান্ড বলেন, শিকার হিসেবে লম্বা গলার নারীদের প্রতিই আকৃষ্ট হত লিটল।

খুন হওয়া বেশিরভাগ নারীই ছিলেন যৌনকর্মী বা মাদকাসক্ত। তাই তাদের হত্যা নিয়ে বেশি নাড়াচাড়া হয়নি। এসব হত্যাকাণ্ডের বেশিরভাগই পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা অতিরিক্ত মাদক সেবনের তালিকায় রেখে পুলিশও সেসময় তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায়নি।

মূলত ওহাইওর বাসিন্দা লিটলের বিরুদ্ধে প্রথমে ১৯৭০-২০০৫ সালের মধ্যে পাঁচ নারীকে হত্যার অভিযোগ ওঠে। ২০১২ সালে কেন্টাকির ভবঘুরে আবাস থেকে তাকে গ্রেফতারের পর ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রত্যর্পণ করা হয়। এফবিআই জানিয়েছে, লিটলের বিরুদ্ধে প্রথমে নার্কোটিক্স আইনে অভিযোগ আনা হয়েছিল। কিন্তু ডিএনএ পরীক্ষায় তার ডিএনএর সঙ্গে মৃত তিন নারীর ডিএনএ রিপোর্ট মিলে যাওয়ার পরই তার সাজা হয়।

তবে বরাবরই নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করে আসছে লিটল। অ্যাটর্নি ববি ব্ল্যান্ড বলছেন, ৬০ নয় কমপক্ষে ৯৪টি খুন করেছে লিটল। তার কাছ থেকে সন্ধান পেয়ে এফবিআই সম্প্রতি লিটলের আঁকা সব ছবি প্রকাশ করেছে। এসব ছবি দেখে ওই নারীদের ঘনিষ্ঠজনরা শনাক্ত করলে নতুন করে মামলাগুলোর তদন্ত শুরু করা সম্ভব হবে।

আন্দোলন৭১/এস