নীতি বাক্য বলে সবাই, মানে ক’জন

image

গাজী কাইয়ুম-

জার্মান দার্শনিক নিটশে বলেছিলেন, ‘সমাজ-রাষ্ট্রে চলতে গিয়ে আমরা কিছু দৃষ্টিভঙ্গি-মূল্যবোধ তৈরি করি। তৈরি করে আমরা তা ভুলে যাই’।

আমরা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি-মূল্যবোধের দিক থেকে বলি নারীদের সম্মান করা ও তাদের অধিকার আদায়ের কথা। কিন্তু আমরা কতটুকু কার্যকর করতে পেরেছি? দিন দিন নারী হত্যা, ধর্ষণসহ নানা নির্যাতন বেড়ে চলেছে; অনেকে তার সুষ্ঠু বিচার পায়না নারীদের সুরক্ষার  জন্য প্রণীত আইন অনেক শক্তিশালী। কিন্তু সে আইনের কোনো কার্যকর নেই বলে অপরাধীরা দিনের পর দিন জঘন্য এই অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান; যেখানে আমরা জ্ঞান অর্জন করি, আর শিক্ষকদের বলা হয় মানুষ তৈরির কারিগর, যাদের সম্মান পিতা-মাতার সমান; তাদের মতো কিছু ব্যাক্তিরা যদি এমন জঘন্য কাজে লিপ্ত হয়, তাহলে একদিন সব শিক্ষকের ওপর থেকে বিশ্বাস উঠে যাবে সর্বস্তরের মানুষের।

২০১৭ সালে সারাদেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮১৮ নারী। ৭ এপ্রিল ২০১৭ তে আশুলিয়ার কুরগাঁও আবাসিক ডে-কেয়ার স্কুলের ভিতরে ৯ বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে নিজ কক্ষের ভেতরে হাত-পা ও মুখ বেধেঁ ওই ছাত্রীকে ধর্ষন করে মুঠোফোনে তার ভিডিও চিত্র ধারনের অভিযোগ উঠেছিল প্রধান শিক্ষক আমির হোসেনের বিরুদ্ধে। (তথ্যসূত্র: উকিপিডিইয়া)।

১১ জুন ২০১৭ তে সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল ওই স্কুলের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে(তথ্যসূত্র: উকিপিডিইয়া)।

লক্ষ্মীপুর সদরের নন্দপুর কাদেরিয়া দাখিল মাদ্রাসার পঞ্চম, অষ্টম ও নবম শ্রেণীর তিন ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগে একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ইমাম হোসেনকে আটক করে পুলিশ। (তথ্যসূত্র: উকিপিডিইয়)।

২০১৮ সালে দেশে ২৭১ টি শিশু ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, হত্যা ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছে। এছাড়া শুধু শিক্ষকদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছে ১২৯টি শিশু। আর ধর্ষণ, হত্যা ও অপহরণের চেষ্টা এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১০০৬ শিশু। (তথ্যসূত্র: মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন)।

২০১৮ সেপ্টম্বরে রামপুরা জাতীয় মহিলা মাদ্রাসার নবম শ্রেণির  শিক্ষার্থী নাজরানা কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় জোরপূর্বক ধর্ষণ করে মেরে ফেলা হয়েছিল। আসামি প্রভাবশালী হওয়ার কারণে বিচার এখনো হয়নি।(তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ)।

২০ জানুয়ারি ২০১৯ বরগুনা সদর উপজেলার সাহেবের হাওলা রফেজিয়া দাখিল মাদ্রাসার শরীর চর্চা শিক্ষক মো: সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে একই প্রতিষ্ঠানের ৮ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল (তথ্যসূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন)।

৬ এপ্রিল ২০১৯ ফেনীর সেনাগাজীতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাতকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার সাথে ওই  মাদ্রাসার শিক্ষক জড়িত। ২৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসার নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার পক্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে যান। তারা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে নিতে তাকে চাপ দেন। এ সময় তিনি কিছু না বলায় তিনজন শিক্ষার্থী তার হাত ধরে, একজন তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান।

যে শিক্ষকের পাঠ দান করানোর কথা; শ্লীলতাহানি, ধর্ষন, অন্যায়-অপরাধ ও সকল প্রকার খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে বলবে বা শিখাবে; সেই শিক্ষক যদি  শ্লীলতাহানি ও ছাত্রীকে ধর্ষনের মতো জঘন্য কাজে লিপ্ত হয়, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ব্যাবস্থা কি হবে?

লেখক: শিক্ষার্থী; জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।