বিবিসির সংবাদে প্রমাণিত ৩০ ডিসেম্বর ভোট হয়নি: রিজভী

image

নিজস্ব প্রতিবেদক-

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি। সেই প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন,বিবিসির প্রতিবেদন প্রমাণ করে দেশে ৩০ ডিসেম্বর কোনো ভোটই হয়নি। তাই এই নিশিরাতে ভোট ডাকাতির খনি প্রকাশিত হওয়ার পর এখন ভোট ডাকাত সরকারের আর এক মূহুর্তও ক্ষমতায় থাকার ন্যুনতম অধিকার নেই।

বুধবার (১০ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, সারাদেশের ১০ কোটি ৪১ লাখ ভোটারের ভোটাধিকার দস্যুবৃত্তির দ্বারা ছিনিয়ে নিয়েছে। এখন জববদখলকারী দস্যুরাই দেশ শাসন করছে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অংশগ্রহণমূলক সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ তাদের ক্ষমতা ফিরে পাবে না। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়ে দেশের মালিক জনগণকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে বর্তমান ধীকৃত আগ্রাসী সরকার। 

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে বলবো-আপনাদের প্রকাশিত ফলাফল ও বক্তব্যে প্রমাণ হয়েছে যে, দেশে কোনো নির্বাচনই হয়নি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও দেশের স্বনামধন্য নাগরিক সংগঠনগুলো ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে অনুসন্ধানী রির্পোট প্রকাশ করেছে। বিবিসি বলেছে-১৯৭ কেন্দ্রে শতভাগ এবং হাজারো কেন্দ্রে ৯৫ থেকে ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। সুজন একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে বলেছে-৩০০টি আসনে ৪০১৫৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০৩টি আসনের ২১৩টি ভোটকেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে, ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে ৩৫৮টি কেন্দ্রে, ৯৬ শতাংশ ভোট পড়েছে ৫১৬টি কেন্দ্রে। অর্থাৎ ১৪১৮টি ভোটকেন্দ্রে ৯৬ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ ভোট পড়েছে। সুজন সিইসিসহ সংশ্লিষ্টদের দায়ী করে সুপ্রীম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠনের দাবি জানিয়েছে। আমরা মনে করি এই দাবি যথার্থ। মূলত: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৩০০টি আসনেই ভোট জালিয়াতি ছিল নজীরবিহীন ও বিস্ময়কর।

রিজভী বলেন, ৩০শে ডিসেম্বর ভোটের আগের রাতে গোটা দেশে ব্যালট বাক্স ভর্তি করার দালিলিক প্রমাণ এবার স্বয়ং আওয়ামী লীগের অনুগত ও গভীর আস্থাভাজন নির্বাচন কমিশন নিজেই প্রকাশ করেছে। নির্বাচনের ছয় মাস পরে নির্বাচন কমিশন কেন্দ্র-ভিত্তিক যে ফল প্রকাশ করেছে তাতে দেখা গেছে, দেশে কোনো নির্বাচনই হয় নাই। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনও যে ফল প্রকাশ করেছে তাতেও উল্লিখিত তথ্যগুলির বর্ণনা আছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা ৩০ জুন দায় স্বীকার করে নিয়ে বলেছেন, শতভাগ ভোট পড়া কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়।

বিএনপির এই নেতা বলেন, এই বিশ্লেষণের মাধ্যমে যেটি ফুটে উঠেছে তাহলো এই নির্লজ্জ ভোটারবিহীন সরকারের নির্বাচন কমিশন ৩০ ডিসেম্বরের ভোট নিয়ে ভোটারদের সঙ্গে ‘ফান’ বা হাস্যকৌতুক করেছে। মধ্যরাতে নবআবিস্কৃত ভোট ডাকাতির অভিনব পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে জালিয়াতি করতে সহায়তা করার জন্য অবশ্যই সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্টদের বিচার হওয়া উচিৎ।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির কাছে আমাদের আবেদন, পৃথিবীর ইতিহাসে অকল্পনীয় এই ভয়াবহ ভোট চুরি ও ভোট ডাকাতির একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল করুন। উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিশন করে যারা এই অনিয়মের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ আপনার। রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসাবে ভোট বঞ্চিত ভোটাররা দ্রুত আপনার সুবিবেচনাপ্রসূত পদক্ষেপের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান।

আন্দোলন৭১/এস