ভূমধ্যসাগরে যে ৩৯ বাংলাদেশি নিখোঁজ রয়েছেন

image

ডেস্ক নিউজ-

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবাহী নৌযানডুবিতে নিহত একজন বাংলাদেশি বলে সনাক্ত করা হয়েছে এবং আরো ৩৯ বাংলাদেশি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বুধাবার (১৫ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন এ কথা জানান। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তিউনিসিয়ায় অবস্থানরত লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তারা ডুবে যাওয়া নৌযানের উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের সাথে কথা বলে নিহত ও নিখোঁজ বাংলাদেশিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। এ পর্যন্ত নিহত একজন বাংলাদেশি বলে সনাক্ত হয়েছেন। তার নাম উত্তম দাস। তার বাড়ি শরিয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায়।

তিনি জানান, নৌকাডুবির পর তিউনিসিয়ার জেলেদের উদ্ধার করা ১৬ জনের মধ্যে ১৪ জনই বাংলাদেশি। এদর মধ্যে চারজন মারাত্মক আহত অবস্থায় তিউনিসিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকি ১৪ জন সেখানে রেডক্রিসেন্টের ক্যাম্পে অবস্থান করছেন। আমাদের কর্মকর্তারা নিখোঁজদের সম্পর্কে আরো তথ্য সংগ্রহে কাজ করছেন। ‘ঠিক কতজন বাংলাদেশি নিখোঁজ রয়েছেন তা এখনো অনিশ্চিত।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৩০ জন বাংলাদেশিসহ ১৫০ জন অভিবাসীকে নিয়ে একটি বড় নৌযান বৃহস্পতিবার রাতে লিবিয়ার উত্তর-পশ্চিম উপকূলীয় জুওয়ারা ছেড়ে যায়। পরে তাদের দুটি ছোট নৌযানে তোলা হয়। এর মধ্যে একটি ইতালি উপকূলে পৌঁছলেও দ্বিতীয়টি ৭০-৮০জন যাত্রী নিয়ে তিউনিসিয়ার অদূরে ডুবে যায়। বেঁচে যাওয়াদের তথ্য মতে তাদের জোর করে ছোট নৌযানে তোলা হয়। কেউ কেউ ছোট নৌযানে উঠতে আপত্তি করলে তাদের এমনকি শারীরিক নির্যাতন করা হয়।

পররাষ্টমন্ত্রী বলেন, তিউনিসিয়ায় যখনই পাওয়া যাক, বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃতদেহ দেশে নিয়ে আসবে।

নিখোঁজ বাংলাদেশিরা হলেন-

আব্দুল আজিজ, আহমেদ, লিটন, খোকন, আফজাল হোসেন, মোমিন আহমেদ, দিলাল আহমেদ, কাসেম, জিল্লুর রহমান, কামরান আহমেদ মারুফ, রোকন আহমেদ, আয়েজ আহমেদ, সুজন আহমেদ, ইন্দ্রজিত, জুয়েল, শোয়েব, সিলেটের সাজু, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, সুনামগঞ্জের নাজির আহমেদ,হাফিজ শামিম আহমেদ, মৌলভীবাজারের ফরহাদ আহমেদ, হবিগঞ্জের মুকতাদির, আলী আকবর, জাকির হাওলাদার, শাহেদ, নায়িম, স্বপন, নাদিম, মাদারিপুরের সজিব, সাব্বির, জালালুদ্দিন, কিশোরগঞ্জের সজল, আব্দুর রহিম, আওলাদার, নাসির আহমেদ, মুনির, রাজিব, পারভেজ, শরীয়তপুর থেকে সুমন ও নরসিংদীর জাহিদ।

আন্দোলন৭১/বাসস/এস