মিলাদের নির্যাতনের শেষ কোথায়!

image

আশরাফি দিবা- 

২০০৮ সালের কথা, মিলার ‘রুপবানে নাচে কোমর দুলায়ে’ গানের সাথে কোমর দুলায়নি এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছে। সেই সময় গানটি অসম্ভব জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এছাড়াও ‘বাপুরাম সাপুড়ে’, ‘তুমি কি সাড়া দেবে’র মতন সুন্দর সুন্দর গানে মিলা মুগ্ধতা দিয়েছেন তাঁর ভক্তদের। পছন্দের শিল্পীদের তালিকায় মিলার নামও তখন থেকেই শীর্ষে।  

বাংলাদেশের পপ তারকাদের মধ্যে মিলা ইসলাম অন্যতম একজন। দেশ বিদেশ মিলিয়ে রয়েছে তাঁর অসংখ্য ভক্ত। মিলার একটি গান শোনার জন্য কিংবা তাঁকে একবার দেখার জন্য জমায়েত হয়েছে অসংখ্য মানুষ। কিন্তু আজ যখন সেই মিলা হাত বাড়িয়ে ভক্তদের সাহায্য চায় ন্যায় বিচারের জন্য, কেউ তাঁর পাশে দাঁড়ানোর মতো নেই। ফেসবুকে লাইভে এসে যখন সে নিজের সাথে অন্যায়ের কথা বলে, তখন তাঁকে নিয়েই বাজে মন্তব্য করা হয়, আবার কেউ কেউ মানুষ দেখানো সহানুভূতিও দেখায়। কিন্তু ন্যায়ের জন্য তাঁর এই লড়াইয়ে সাহস করে পাশে দাঁড়ায় নি কেউ। 

এমনকি গণমাধ্যমগুলোরও নেই কোনো সক্রিয় ভুমিকা। নিজেদের সংবাদগুলো চটকদার বানানোর জন্য মিলার নগ্ন অবস্থায় নির্যাতনের বর্ণনা তুলে ধরে ঠিকই, কিন্তু তাঁর ন্যায়ের জন্য কোনো শব্দ লেখা হয় না। এমন শব্দ লেখা হয় যে, শব্দগুলোর জন্য আমাদের দেশের একজন নামীদামী শিল্পীকে লজ্জায় মুখ লুকাতে হয়, আবার সংবাদ সম্মেলন করে নিজের লজ্জার কথা বলতে হয়। তাহলে, এই কি আমাদের দেশের গণমাধ্যমের সংস্কৃতি!

নারী দিবস আসলেই একদল মানুষ নারী অধিকার নিয়ে লাফালাফি করে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কতজন নারী তাঁর সাথে হওয়া নির্যাতনের জন্য ন্যায় বিচার পেয়েছে, প্রশ্ন সেখানে! যে দেশে মিলার মতো একজন তারকাকে ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য কখনও ফেসবুক লাইভে, কিংবা গণমাধ্যমের সামনে এসে কান্নাকাটি করে বলতে হয়, ‘আমি অনেক সাহসী মেয়ে, কিন্তু এরকম জানলে আমি যেতাম না মামলাটাতে, যেখানে আমার মান সম্মান নিয়ে টানাটানি করা হবে’। সেখানে দেশের সাধারণ একজন নারীকে কতটা হেনস্থার শিকার করা হয় সেখানেও প্রশ্ন থেকে যায়। তাহলে এই কি বাংলাদেশের মতো একটা স্বাধীন দেশের আইনের সংস্কৃতি! যেখানে আজও নারীরা অবহেলা আর নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত!

মিলার এই ন্যায় বিচার পাওয়ার লড়াই চলছে ২০১৭ সাল থেকে। কিন্তু এখনও সে কোনো ন্যায় বিচার পায়নি। যা পেয়েছে তা হলো খবরের কাগজের পাতায় তাঁকে নিয়ে কিছু চটকদার হেডলাইন আর আদালতে হয়েছে হেনস্থার শিকার। কিন্তু পাশে পায়নি কোনো ভক্ত, কোনো গণমাধ্যম কিংবা দেশের আইনকে। 

 তাহলে কী তনু, রুপা, নুসরাতের মতো মিলারও মৃত্যুর সংবাদের জন্য অপেক্ষা করছি আমরা। তাঁর মৃত্যুর পর ন্যায় বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামার জন্য! 

আন্দোলন৭১/এডি