সুদের গ্রাম ঝিকরগাছার রাজবাড়িয়া

image

জয়নাল আবেদীন, বেনাপোল থেকে-

সুদ, সমাজের একটি অভিশাপ। দিনে দিনে গরীব, অসহায় নিম্ন আয়ের মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ এই সুদের মধ্যে ডুবে যাচ্ছে। বাড়ি, ঘর, জায়গা জমি, আত্মীয়, পরিবার পরিজন ফেলে সুদের দেনার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে অনেক পরিবার। কোন কোন পরিবার সুদে মহাজনের চাপ আর একমাত্র ভিটেবাড়ি টুকু বিক্রি করে সুদের টাকা পরিশোধের জন্য চাপসহ বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ কথা বলে নানাবিধ হুমকি ধামকির মধ্যে রয়েছে। যার ফলে এক প্রকার গৃহবন্দি ভাবে দিন কাটাচ্ছে আরো কয়েকটি পরিবার। 

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নে পাওয়া গেল এমন একটি গ্রাম, যে গ্রামে খুঁজে পাওয়া গেল এমন কিছু পরিবার, যে পরিবারগুলো সুদের দেনায় জর্জরিত। কেউ কেউ বাড়ি ছাড়া, কেউ কেউ সহায় সম্বল সব কিছু হারিয়ে অন্যের দারস্ত হয়েছে। অভাব দারিদ্রতা এখন যাদের নিত্য সঙ্গি। আনন্দ যাদের দু’চোখ দিয়ে জল হয়ে পড়ে। দুর্গন্ধ দীর্ঘশ্বাসে যারা কষ্টকে আড়াল করে বেঁচে আছে। 

বলছিলাম শংকরপুর ইউনিয়নের রাজবাড়িয়ার গ্রামের কথা, যে গ্রামে কয়েকজন সুদে মহাজনের অত্যাচারে এমন হৃদয় বিদারক রহস্য বেরিয়ে এসেছে।

সরেজমিনে আন্দোলন৭১'র প্রতিবেদকের তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ঝিকরগাছা উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের রাজবাড়িয়া গ্রামের জিন্নাহ নামের এক ব্যক্তি এলাকার গরীব অসহায় দুস্থ্য ব্যক্তি বা পরিবারকে চিহ্নিত করে তাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মোটা অংকের টাকা সুদের মাধ্যমে ধার দিয়ে থাকে। লাখ টাকায় প্রতিমাসে নিয়ে থাকে চড়া সুদ। যা কিনা প্রতি লাখে ১ হাজার থেকে শুরু করে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত। এমন আকাশ ছোঁয়া চড়া সুদের ভারে সুদের টাকা ধার নেওয়া পরিবারগুলো দিনে দিনে পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস এবং বছরের পর বছর সুদে নেওয়া টাকার মুল টাকা পরিশোধ তো দুরের কথা বরং সুদের টাকাই পরিশোধ করতে হিমশিম খেয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে এই গ্রামের অসহায় পরিবারগুলো।

গ্রামের ভুক্তভোগী পরিবার গুলোর জীবন জিবীকার হালচাল এবং তাদের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে জানার পর অভিযুক্ত জিন্নার নাম উঠে আসে প্রথমে। রাজবাড়িয়া গ্রামের এক প্রান্ত অন্য প্রান্ত তন্নতন্ন করে খুঁজার পর এক সময় দেখা মেলে জিন্নার সাথে।

সুদে অসহায় হওয়া এক ব্যক্তি। ছবি: আন্দোলন৭১ প্রতিনিধি

রাজবাড়িয়া গ্রামের ছোট্র বাজারের মধ্যে প্রকাশ্যে কথা হয় তার সাথে। জানতে চাওয়া হয় তার সুদের ব্যবসা এবং তার এত টাকার উৎস কোথা থেকে এলোসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। সাংবাদিক দেখে জিন্নাহ কিছুটা ভয় পেয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও বলে দেয় তার এত টাকার যোগান দাতাদের নাম। কাপা কাপা গলায় লুকিয়ে থাকা থলের বিড়াল বাহিরে বের করে দেয় জিন্নাহ। 

জিন্নাহ জানান, এই সুদের ব্যবসায় সে শুধু মাত্র একজন আদায়কারী হিসাবে কাজ করে। টাকার যোগানদাতা কামাল হোসেন আর আনোয়ার হোসেন আনার নামে দুই সহদর। উভয়ই রাজবাড়িয়া গ্রামের হাজী আমির হোসেনের ছেলে এবং জিন্নাহ একই গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে।