হাবিপ্রবিতে সমাজের ফেরিওয়ালা

image

হাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

বর্তমান বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা শতাধিক। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেসব শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারছে তাদের মধ্যে অনেকেই পছন্দের বিষয় না পেয়ে হতাশায় ভোগে। এছাড়াও অনেক শিক্ষার্থী বিষয় নির্বাচনে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। কোন বিষয়ে ভর্তি হবে, এটা তারা নির্বাচন করতে পারে না। এক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞান উচ্চ শিক্ষার সিদ্ধান্ত হতে পারে সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

উত্তরবঙ্গে প্রথম ও একমাত্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে(হাবিপ্রবি) ২০১৬ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ।বর্তমানে পাঁচ(৫) জন শিক্ষক নিয়ে তিন ব্যাচে শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ৩৫৫ জন।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগে প্রতি শিক্ষাবর্ষে ১১০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়।যদিও শিক্ষার্থী তুলনায় শিক্ষক কম তারপরও শিক্ষকদের একান্ত প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাচ্ছে তার নিজ লক্ষ্যে।

তিন বছরেই শিক্ষার্থীরা নিজ দক্ষতায় অবস্থান করে নিয়েছে রাজনীতি,সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিকতা সহ অন্যান্য সংগঠনে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের কোর্স কারিকুলামে প্রতি সেমিস্টারে তত্ত্বের সঙ্গে দুই/তিন টি করে মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষণ-নিরীক্ষণ তথা পর্যবেক্ষণ করে গবেষণা পত্র জমা দিতে হয়।অর্থাৎ তাদের এমনভাবে গড়ে তুলা হচ্ছে যে,তারা বস্তুনিষ্ঠভাবে বা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে পরিবর্তনশীল সমাজ এবং সমাজবদ্ধ মানুষের আচার-আচরণ তথা পারস্পরিক সম্পর্ক ও বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার গভীরতা অনুধাবন করে সমস্যার সমাধানের দিকনির্দেশনা প্রদান করতে পারে।

বিভাগীয় শিক্ষকরা বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ডকুমেন্টারি সর্ট ফিল্ম সহ চলমান সামাজিক সমস্যার উপর তাদের নিজস্ব গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও নেই পিছিয়ে, তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিজস্ব প্রকল্প প্রদর্শন সহ সামাজিক পরিবেশের উন্নয়ন ও বিভিন্ন প্রকল্পে সহযোগী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে পড়াশুনা শেষে আছে বিভিন্ন কর্মের হাতছানি।সমাজবিজ্ঞানে ডিগ্রীধারী শিক্ষার্থীদের রয়েছে সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, সমাজসেবা অধিদপ্তরের পাশাপাশি দাতব্য এবং অন্যান্য বেসরকারি সংস্থায় পেশাগতভাবে কাজ করার সুযোগ।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একজন সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে যেমন ইউএনডিপি, ইউনেসকো, ইউনিসেফে চাকরি করে আন্তর্জাতিক স্কেলে বেতন প্রাপ্ত হন।দেশের বাইরে অ্যামেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াতে সমাজবিজ্ঞানে ডিগ্রীধারীদের রয়েছে বিশেষ কদর।

বাংলাদেশেও বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ও প্রশাসনিক পরিকল্পনা গ্রহণে সমাজবিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

আন্দোলন৭১/আজিজুর/এডি