রবিবার,১১ এপ্রিল, ২০২১ অপরাহ্ন

টাকা পকেটে ভড়িয়ে রংপুরে রাগবি ইভেন্ট আয়োজনের নামে তামাশা

রিপোর্টারের নাম: আন্দোলন৭১
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ০২ এপ্রিল, ২০২১ ২২ ৪৮

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর- 

গুটিকয়েক কর্মকর্তা খেলোয়াড়দের ও টুর্নামেন্টের বরাদ্দ টাকা পকেট ভরছেন বল অভিযোগ পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে জানা যায় বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমস ২০২০ এর রাগবি ইভেন্ট রংপুরে দায়সারাভাবে আয়োজন করা হচ্ছে।

ফেডারেশন এর সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তারা জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনে কে পাশ কাটিয়ে প্রথমে করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে তারা জেলা ক্রীড়া সংস্থার তোফাজ্জল হোসেন ও আলম কে সাথে নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ছাড়াই এই টুর্নামেন্টটি নিজেদের পকেট ভরার জন্য কোনরকম দায়সারাভাবে করছেন।

বারোটি পুরুষ ও ৬ টি মহিলা দলের খেলোয়াড়দের জন্য বিএড কলেজের হোস্টেল কোনরকম পরিষ্কার পরিছন্নতা ছাড়াই থাকার ব্যবস্থা করেন। সেখানে ১ তারিখ রাতে ২৯০ জনের খাবার ব্যবস্থা থাকলেও ১৭০ টি মাছের পিস করা হয়। পরবর্তীতে খাবার শর্ট পড়লে খেলোয়াড়দের অভিযোগের মুখে ডিম দিয়ে খাবার চালিয়ে দেওয়া হয়।

এর পরের দিন আজ খেলার আগে দুপুরে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হয় এবং একটি ভিডিওবার্তা থেকে জানা যায় রংপুর দলের খেলোয়াড়দের খাবার দেওয়া হয়নি এবং যেসব সবজি ডাল মাছ দেয়া হয়েছে তা খাওয়ার যোগ্য নয়।

টুর্নামেন্টের খাদ্য কমিটির কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানা যায় তাদের সাথে কোন যোগাযোগ ছড়ায় ২/১ জন মিলে খাবারের সমস্ত আয়োজন করছে নিজেদের পকেট ভরার জন্য।

প্রতিদিন ৩৫০ টাকা করে বরাদ্দ দিলেও খাবার প্রতি তারা পাচ্ছেন না বলে খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়। এছাড়াও মাঠ সজ্জা ও মাঠের প্রস্তুতি অনেক নিম্নমানের ছিল।

ফেডারেশন এর সঙ্গে এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানা যায় স্থানীয় প্রশাসনকে তারা কোন রকম বাজেট বলেননি অন্ধকারে রেখে এ টুর্নামেন্টে দায়সারা ভাবে চালিয়ে দিচ্ছেন।

প্রচার কমিটির কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানা যায় খেলাটি সরাসরি সম্প্রচার করার কথা থাকলেও ফেডারেশন তা বাজেট না দিয়ে নিজেদের পকেটে রাখেন।

স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানা যায় এই টুর্নামেন্টের বাজেট বা আয়োজন সম্বন্ধে কোন প্রকার তথ্য তাদেরকে দেয়া হয়নি। এ সম্পর্কে তারাও অন্ধকারে ও ধোঁয়াশায় রয়েছেন।

জাতীয় পর্যায়ের একটি খেলায় একটা স্কোর বোর্ডও মাঠে দেখা যায়নি এবং কোনরকম ১৫০ টাকা দামের বাঁশ দিয়ে গোলপোস্ট বানানো হয়েছে।

এছাড়াও খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাতে থাকা-খাওয়া এবং যাতায়াতের নানান অভিযোগ পাওয়া যায়। জাতীয় পর্যায়ের একটি খেলার মাঠের ডেকোরেশন অনেক নিম্নমানের ছিল। অপরদিকে আরেকটি ভেন্যু পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজে কোন রকম সুযোগ-সুবিধা ও খেলোয়ার তাবু স্কোরবোর্ড অন্যান্য বিষয়াদি ছাড়াই দায়সারাভাবে মেয়েদের গ্রুপ পর্যায়ের খেলা চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

টুর্নামেন্টের বিভিন্ন উপকমিটির কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা জানা যায় যে তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করা হয়নি গুটি কয়েক জন সমস্ত ডিসিশন নিচ্ছেন এবং বাজেট সম্বন্ধেও অবগত নন। তাদেরকে পাশ কাটিয়েই দুই-একজন সমস্ত বিষয় তদারকি করছেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট কমিটিতে যারা রয়েছেন তাদের অনেকে অভিযোগ করেছেন তাদের কাছে কাগজপত্র এবং দাওয়াত কার্ডও পৌঁছায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Andolon71
Theme Developed BY Rokonuddin