বুধবার,১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ অপরাহ্ন

সেঞ্চুরিতে ডাবের দাম

রিপোর্টারের নাম: আন্দোলন৭১
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ০৬ সেপ্টেম্বার, ২০২১ ১৩ ৪১

ডেস্ক নিউজ :

ক্লান্ত এক পথচারী ঘর্মাক্ত অবস্থায় এসে সেই ডাব বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করলেন, ডাব কত করে? উত্তরে ডাব বিক্রেতা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এক ডাব ১২০ টাকা। ডাবের কেনা দাম অনেক বেশি, তাই বিক্রিও বেশি দামে। 


ডাবের দাম শুনে তিনি বললেন, ১২০ টাকা দিয়ে একটা ডাব কিনে খেতে হবে? তাহলে তো আমাদের মতো সাধারণ মানুষরা আর ডাব কিনে খেতে পারবে না।

ডাবের দামের এ চিত্র গত কয়েকদিনের। ১২০/১০০ টাকার নিচে রাজধানীর কোথাও মাঝারি সাইজের ডাব পাওয়া যাচ্ছে না। দেখতে সুন্দর, আর একটু বড় দেখতে হলেই সেই ডাব বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। আর তুলনামূলক ছোট ডাব বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। তবে ১২০ টাকা দামের ডাবের সংখ্যাই বাজারে বেশি, সেই সঙ্গে বিক্রিও হচ্ছে বেশি।

রাজধানীর গুলশান রোডের বৈশাখী সরণিতে কথা হয় ভ্রাম্যমাণ ডাব বিক্রেতা শহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি ডাবের দাম বেশির কারণ বিষয়ে জানান, আসলে ডাবের সাপ্লাই কম। আগে যেখানে চার-পাঁচ হাজার টাকায় ১০০ ডাব কিনতে পেরেছি, তা এখন কেনা পড়ছে ৯ হাজারে। তাও পাওয়া যায় না। এরসঙ্গে অন্যান্য খরচ মিলিয়ে ১২০ টাকার নিচে বিক্রি করলে লস হয়ে যায়।  


উত্তর বাড্ডা এলাকায় কথা হয় আরেক ডাব বিক্রেতা হামিদুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী, আব্দুল্লাপুরসহ সব পাইকারি বাজারেই ডাবের দাম বেশি। আগের মতো দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অত সংখ্যক ডাব আর আসে না। চাহিদার তুলনায় ডাবের আমদানি কম। এই সুযোগ বুঝে পাইকারি ডাব বিক্রেতারা একদাম ৯ হাজার করে ডাক দেয়। সেই মালে হাত দেওয়া যায় না, বেছে নেওয়ারও সুযোগ দেয় না। তাই যখন ডাবগুলো কিনে আনা হয় তখন ভেতরে কিছু ছোট, খারাপ ডাবও চলে আসে। তাই পাইকারি একটা ডাবের দাম ৯০ টাকা পড়লেও ঘাটতি পোষাতে এক ডাব বিক্রি করতে হচ্ছে ১২০ টাকায়।


এত বেশি দাম তবুও কেমন বিক্রি হচ্ছে ডাব? এমন প্রশ্নের জবাবে গুলশান-বাড্ডা লিংক রোড সংলগ্ন ভ্রাম্যমাণ ডাব বিক্রেতা আব্দুর রহিম বলেন, দাম বেশি তবুও ডাব বিক্রির কমতি নেই। এই যে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, এছাড়া করোনা রোগী তো আছেই। বলতে গেলে ঘরে ঘরে এসব রোগী। আর সেসব রোগীর জন্যই যত দামই হোক প্রতিদিন ডাব কিনছেই তাদের স্বজনরা। এছাড়া স্বাস্থ্য সচেতন মানুষরা চলার পথে রাস্তায় ডাবের দোকান থেকে নিয়মিত ডাব কিনে খান। যারা ডাবের মর্ম বোঝে তারা ডাবের দাম বাড়লেও কিনবেন।

আব্দুর রহিমের কাছ থেকে ২৪০ টাকায় দুটি ডাব কেনা ফরহাদ আহমেদ বলেন, বাসায় রোগী আছে, ডাক্তার বলেছে নিয়মিত ডাব খাওয়াতে। এখন বলতে গেলে প্রতিটা বাসায় বাসায় রোগী। এছাড়া ডেঙ্গু, করোনা রোগীও আছে বেশিরভাগ বাড়িতে। তাই বাধ্য হয়ে দাম বেশি হলেও ডাব কিনতে হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন আগ পর্যন্ত ডাব কিনলাম প্রতি পিস ১০০ টাকা করে, এখন আবার কিছুদিন ধরে ডাবের দাম বেড়েছে। এখন কিনতে হচ্ছে ১২০ টাকায়।  

সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ ডাব বারো মাস পাওয়া গেলেও গরমকালে এর চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2018 Andolon71
Theme Developed BY Rokonuddin